আজ শনিবার, ২২ Jul ২০১৭, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন logo

বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৪, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

শীতকাল মুমিনের জন্য নেয়ামত

নিউজ ডেস্ক, জনতার নিউজ২৪ ডটকমঃ শীতকাল আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ইবাদতের এক বিশেষ মৌসুম। এ নেয়ামত একমাত্র তার খাস বান্দারাই উপভোগ করেন। শীতকালকে রাসুল (স.) নেক্কারদের বসন্তকাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


সাহাবী আবু সাঈদ খুদুরী (রা.) এর বর্ণনায় মহানবী (স.) বলেছেন- শীতকাল হচ্ছে মোমিনের বসন্তকাল। (মুসনাদে আহমাদ)।


ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন- হে শীতকাল তোমাকে স্বাগতম। শীতকালে বরকত নাজিল হয়। শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় নামাজ আদায় করা যায় এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা যায়।


আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- আমি কি তোমাদের শীতল গনিমত কী সেটা বলে দেব না? শ্রোতারা বলেন, অবশ্যই। তিনি তখন বললেন- সেটা হচ্ছে, শীতকালে রোজা রাখা ও রাতে নামাজ পড়া।


অন্য একটি হাদীসে আবু হুরায়রা (রা.) এর বর্ণনায় রাসুল (স.) বলেছেন, তীব্র ঠাণ্ডার দিন আল্লাহর কোনো বান্দা যদি বলে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজকের দিনটি কতই না শীতল। হে আল্লাহ! জাহান্নামের আজাব থেকে আমাকে মুক্তি দিন। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে বলেন- নিশ্চয়ই আমার এক বান্দা আমার কাছে তোমার আজাব থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাকে আশ্রয় দিলাম।


ইসলাম মানুষের সহজাত ধর্ম, বিধায় ইসলামের প্রতিটি বিধিবিধান অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। তাই তো স্থান, কাল ও পাত্রের ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিধান জারি করেছে।


মুসলিম শরীফের একটি হাদীসে এসেছে রাসুল (স.) বলেছেন- আমি কি তোমাদের জানাব না কিসে তোমাদের পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন- অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল। তিনি বললেন- কষ্ট সত্ত্বেও ঠিকভাবে অজু করা। (মুসলিম: ২৫১)।


কথায় বলে ঋতুর রাজা বসন্ত। কিন্তু মোমিনের জন্য ঋতুর রাজা শীত। সালফে সালেহিনের অনুসরণে আমরা শীতকালকে ইবাদতের ঋতু হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর মৌসুম হিসেবে আমরা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারি।


আর এই শীতের লম্বা রাতের চোখের পানি যারা আল্লাহকে দিতে পেরেছে তারা আল্লাহর অনেক কাছের বান্দা হতে পেরেছে। আর এই দুই ফোঁটা চোখের পানিই হয় তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যাবান সম্পদ।


কাগজের লেখা চিঠির ওপর বৃষ্টির পানি পড়লে যেভাবে কাগজের লেখাগুলো মুছে যায়, মানুষ যখন চোখের পানি ফেলে কাঁদে আর চোখের পানি যখন তার গাল বেয়ে পড়তে থাকে তখন সেই পানিটুকু তার আমলনামায় পড়ে কাগজের লেখা চিঠির মতো আমলনামার বদগুলো চিরতরে মুছে যায়।


তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত শীতের এই সময়টাকে কাজে লাগাতে।