আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৭:৫২ অপরাহ্ন logo

সোমবার, ১৫ Jun ২০১৫, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

প্রফেশনাল চ্যানেল হিসেবে বাংলাভিশন ভালোই গতিশীল

আগামী ০৩ জুন, বুধবার শেষ হচ্ছে বাংলাভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘অ-এর গল্প’।  অন্যায়, অপরাধ, অন্ধকার, অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত এবং এই ধরনের সত্য ঘটনার নাট্যরূপ নিয়ে প্রচারিত হত ‘অ-এর গল্প’। ০৩ জুন রাত নয়টা পাঁচ মিনিটে প্রচারিত হয় ধারাবাহিক নাটকটির ১৭৭ তম এবং শেষ পর্ব।

‘যে অনুষ্ঠান শুরু হয় তার সবকটিকেই এক সময় না একসময় শেষ হতে হয়। ‘অ-এর গল্প’ও শেষ হচ্ছে’জানালেন বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান এবং উপস্থাপক শামীম শাহেদ।  ‘ধারাবাহিকটি জনপ্রিয় ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের পরিকল্পনায় আরোও অনেক ধারাবাহিক আছে যেগুলো আরও জনপ্রিয় হবে বলে আমরা আশা করছি।’ কথা হলো বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদ'-র সঙ্গে।

‘অ-এর গল্প’ অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল?

দেখুন বিগত সময়গুলোর আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি যে অনুষ্ঠান বা নাটক মানুষের কথা বলবে সেটাই জনপ্রিয় হবে। যে যত সরলভাবে বলবে সে তত জনপ্রিয় হবে। ‘অ-এর গল্প’ অত্যন্ত সরলতার সঙ্গে মানুষের কথা, মানুষের কষ্টের কথা, মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পশুত্বের কথা বলে যেত। তাই ‘অ-এর গল্প’ জনপ্রিয় হয়েছে। আর ধারাবাহিক নটিকটিতে এমন সব অভিনয় শিল্পীরা অভিনয় করত যাদের দেখলে মনে হতো এটা তাদের জীবনেরই ঘটনা।

আপনি দ্বিতীয়বার বাংলাভিশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর অনেকগুলো নাটক এবং অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হতে দেখেছি। এর পেছনে মূল শক্তিটা কী?

এর পিছনে মূল শক্তিটা হচ্ছে স্বাধীনতা। আপনি যদি কাইয়ূম স্যারকে বলেন, একটা ছবি আঁকুন, তাহলে কাইয়ূম স্যার ক্যানভাসে কোন রংটা কীভাবে ব্যবহার করবেন সেটা তাঁর স্বপ্নের সঙ্গে, ভাবনার সঙ্গে মিশে আছে। এখন কেউ যদি তাকে বলে, না এই রঙ ব্যবহার করা যাবে না, আপনি এই রঙ ব্যবহার করুন। এই ভাবে স্ট্রোক না দিয়ে এইভাবে দেন-তাহলে কী দাঁড়াবে? ছবি ঠিকই হবে কিন্তু কাইয়ূম স্যার এর স্বপ্ন পর্যন্ত পৌছানো কঠিন হবে। আমাদের বেলাতেও তাই ঘটেছে। আমাদের ভাবনা অথবা স্বপ্ন অনুযায়ি কাজ করতে পেরেছি বলেই আমরা পেয়েছি আরমান ভাই, সিকান্দার বক্স, ফরমালিন, লংমার্চ, রেড-সিগন্যাল, অ-এর গল্প, আমার আমি, ফ্রন্ট লাইন, আমি এখন কী করব, মনের কথা এসব অনুষ্ঠান।

আপনি বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘অ-এর গল্প’-এর উপস্থাপনার কাজটাও কেন করলেন?

আমার প্রতিটি মুহুর্তে মনে হচ্ছে, একটা চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে নষ্ট করছি। আমি যে কাজটা করছি, বা যতটুকু অর্জন করছি তা আমার এই ‘অনুষ্ঠান প্রধান’ পদবীটার সঙ্গেই থেকে যাবে। অফিসে অনুষ্ঠান প্রধানের কাজ করার চাইতে আমার কাছে বেশি আনন্দের মনে হয় যখন আমি কোনো একটা নাটক নির্দেশনা দেই, যখন একটা উপন্যাস লিখি, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেই, যখন একা একা রাস্তায় হাটি, একটা নদীর পাশে বসে থাকি কিংবা কোনো একটা ভালো বই পড়ি। এই উপস্থাপনাটা সেই রকম একটু দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতোই।

সম্প্রতি বাংলাভিশন নবমবর্ষ পূর্ণ করে দশমবর্ষে পদার্পণ করল। টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে বাংলাভিশন এখন কোন পর্যায়ে আছে বলে আপনি মনে করেন?

আমরা যেধরনের টেলিভিশন চ্যানেলের স্বপ্ন দেখি বাংলাভিশন নিয়ে আমরা তার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারিনি। আমরা স্বপ্ন দেখি এমন একটা চ্যানেলের যে চ্যানেলটি তরুণদের স্বপ্ন দেখাবে, দেশের কথা বলবে, সুন্দর সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একটা প্রফেশনাল চ্যানেল হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাভিশন ভালোই গতিশীল। কিন্তু অনেকদূর যেতে হবে।

আপনার সামনের পরিক্লপনা কী?

বেশ কয়েকটি নতুন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। রম্য ধাচের নাটকগুলোর সাফল্যের পর আমরা এখন পরিবার কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান বা নাটক বানানোর পরিকল্পনা করছি। পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন হালকা হয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। দেখা যাক।