আজ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১১:০০ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৬ Jun ২০১৫, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

উত্তাল যমুনার বুকে দেখা যায় দুটি চর-যেন টেকনাফ

চন্দন কুমার আচার্য

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

সিরাজগঞ্জঃ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। শুধু ইতিহাসেই থেকে যাবে, পদ্মা, মেঘনা, শীতলক্ষা আর যমুনা।  বর্ষার মৌসুমে প্রাণ সৃষ্টি করেছে প্রধান তিন নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা। যমুনা নদীর করাল গ্রাসে বেলকুচি, চৌহালী  উপজেলা সহ সিরাজগঞ্জ জেলা বাসীর অনেক সম্পত্তি বিলীন হয়ে গিয়েছে।

সেই যমুনা নদীতে এখনও জেগে আছে এক দ্বীপ। নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় এ দ্বীপ দেখলে মনে হয় চট্টগ্রামের টেকনাফ। প্রবল স্রোতস্বিনী এ নদীর বুকে  এখনও যমুনা সেতুর দু’ধারে জেগে আছে কাশবন আর বসতবাড়ী এলার এক চরাঞ্চল। বিস্তীর্ন অঞ্চল পরিণত হয়েছে ফসলি মাঠে।

যমুনার  সেই দীপে কলাগাছ, ইউকালেকটর গাছ সহ কিছু বসত বাড়ী। নদীর বুকে বর্ষায় পলি পড়ে নদীতে স্রোত আছে ঠিকই কিন্তু নাব্যতা হারিয়ে স্রোতস্বিনী যমুনা সিরাজগঞ্জের যমুনা স্পার, চৌহালী স্পার, তীরবর্তী হওয়া ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যমুনায় পলি মাটি না জমে গভীরতা থাকতো তাহলে আর তীরবর্তী এলাকা এসে গভীর জলধারার স্রোত চলে যেতে বঙ্গোপসাগরে।

যমুনা নদী নিস্কাসন যদি না করা হয় তাহলে, মৌসুমী বৃষ্টি আর বর্ষার মৌসুম চলে গেলেই মরা খালে পরিনত হবে। থাকবে না আর যমুনা সেই স্রোতধারা। করালগ্রাস যমুনার ইতিহাস শুধু পুথিতেই লেখা থাকবে দেখবে না আর নব প্রজন্ম যমুনার ভাঙ্গা গড়া।   

উত্তাল যমুনা যৌবন হারা হয়ে  মরাখালে পরিণত, বর্ষিয়ান শতবছরের এক বুড়ো মানুষের মতো ফ্রেমে বাধা থাকবে যমুনা ছবি। এক সময়ে যে নদের প্রশস্ততা ছিল ৮/১০ কিঃমিঃ আজ সেটি ভরাট হতে হতে স্থান ভেদে কোথাও ১/২শ মিটারে দাঁড়িয়েছে। যমুনা সেতুর দুরত্ব ৪.৮ কিলোমিটার, সেখানেই দেখা যায় ভরা বর্ষা মৌসুমে আজও জেগে আছে দুটি চর। যে নদীর উত্তাল ঢেউ ছাপিয়ে যেত দু’কূল, সেই যমুনা আজ উত্তালহীন ভরা বর্ষাতেও। তার সেই তর্জন-গর্জন এখন আর শোনা যায় না যমুনার। মানুষের মুখে শোনা যায় না বাড়ি, ভীটে আর গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 

শুস্ক মওসুমে এর দিকে তাকালে চার দিকে চোখে পড়ে এক হাহাকার। ১৯৩৮ থেকে ১৯৮০ দশকের ইতিহাসে জানা যায়, বেলকুচি উপজেলা সোহাগপুর, বেলকুচি, লক্ষীপুর, বড়ধুল, বংকুরী গ্রাম সহ চৌহালীর ও সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুরের হাজারো গ্রাম বিলীন হয়ে গিয়েছে। সেই গ্রাম গুলো আজ মানুষের বসত বাড়ী হিসাবে জেগে উঠেছে।

১৯৩৮-১৯৪৭ দশকে জমিদারদের বাণিজ্যিমুখী পাল তোলা নৌকা, যমুনার বুক চিরে পালতোলা নৌকা, দুই ধারের কাশবনের সারি, কিংবা মাল বোঝাই নৌযানের