আজ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০১৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজের বাম্পার ফলন

হাবিবুর রহমান

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

চুয়াডাঙ্গাঃ চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক হারে আবাদ শুরু হয়েছে জেসমিন ১ ও ২ জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের। স্বল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে অধিক লাভের কারণে কৃষকরা এ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। ৬ বছর আগে চুয়াডাঙ্গায় এ তরমুজের আবাদ শুরু করে এ্যাগ্রী কনসার্ন লিমিটেড। এদের সাফল্য দেখে ওই এলাকার অনেক কৃষক গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদে এগিয়ে আসেন। বর্তমানে জেলায় ৬শ’ বিঘা জমিতে এ তরমুজের আবাদ হচ্ছে বলে কৃষিবিভাগের অভিমত।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ তালহা জুবাইর ও কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, ২০০৯ সালে চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়ায় প্রথম তিন বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ শুরু করে এ্যাগ্রী কনসার্ন লিমিটেড। এদের সাফল্য এবং লাভ দেখে এলাকার অনেক কৃষক এ তরমুজের আবাদে এগিয়ে আসেন। জেসমিন ১ ও ২ জাতের তরমুজ বিজ লাগানোর পর মাত্র ৬০/৬৫ দিনে তরমুজটি বাজারে বিক্রির উপযোগি হয়ে ওঠে এবং ৬৫/৭০ দিনের মধ্যে তা বিক্রি করে ফেলতে হবে। তা না হলে ৬৫/৭০ দিনের পরে এ তরমুজে  পচন দেখা দেয়। তাই কৃষকেরা ৬৫/৭০ দিনের মধ্যে তরমুজ বিক্রি করে ফেলে। বিঘাপ্রতি এ তরমুজ উৎপাদনে খরচ পড়ে ৩০/৪০ হাজার টাকা। বিক্রি হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকায়। বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ এ অঞ্চলের মানুষের অর্থকরী ফসল হিসেবে উঠে এসেছে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন এ আবাদের দিকে ঝুকে পড়ছে।

তাছাড়া আধুনিক পদ্ধতি মেনে করা এ তরমুজে রয়েছে আবাদের সুবিধা, অধিক ফলন, বিক্রয় সুবিধা। যা কৃষকদের আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলেছে। তবে চলতি বছরে অধিক খরার কারণে ক্ষেতে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এবার আবাদ খরচ বাড়বে বলে কৃষকের অভিমত। এ তরমুজের সেরাটা চলে যায় ঢাকা কারওয়ান বাজার। বাকিগুলো বিক্রি হয় চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

জেসমিন ১ ও ২ জাতের গ্রষ্মকালীন তরমুজের বীজ সারিবদ্ধ ভাবে এপ্রিলের মাঝামাঝি লাগাতে হয়। এটি আবাদে মালসিং পেপারের দরকার হয়। বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে গাছগুলে মাচায় তেিল দেয়া হয়। গাছে অধিক ফল ধরলেও প্রতিটি গাছে দুইটি করে ফল রাখলে ফল অনেক সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও পরিপুষ্ট হয়। পরিপুষ্ট একটি তরমুজ ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি লাভ থাকে এক লাখ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ তালহা জুবাইর আরও জানায়, গত বছর জেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ হয়েছিলো ৪শ’ বিঘা। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬শ’ বিঘায়। কৃষকরাই নিজ উদ্যোগে এ আবাদ শুরু করেন। দেশি তরমুজ মাটিতে হয়। কিন্ত গ্রীষ্মকালীণ তরমুজ মাচায় ওঠে এবং তরমুজগুলো সুন্দর করে নেটের ব্যাগে মুড়িয়ে বেঁধে দেয়া হয়। এর জন্য যদি কোন কারিগরি সহয়তা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে তা কৃষি বিভাগ থেকে দেয়া হবে বলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান।

গাড়াডোব এলাকার কৃষক শরীফ উদ্দীন হাসু, বশির উদ্দীন, আমজাদ হোসেন মনে করেন, কৃষকের এ ধরণে সফল উদ্যোগে যদি কৃষি বিভাগ প্রচার ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেয় তবে কৃষকরা এ ধরণের আবাদে উৎসাহিত হবে। আর এর ফলে দেশে বিদেশি ফলের চাহিদা কমিয়ে দেশি ফলের উপর মানুষের আস্থা বাড়বে। কৃষকরাও অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বচ্ছল হবেন।