আজ রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন logo

রবিবার, ১৯ Jul ২০১৫, ০৭:১০ অপরাহ্ন

হুমায়ুনের হিমু বেঁচে থাকবে সবার মাঝে

শেখ লিমন

জনতার নিউজ ২৪ ডটকম

ঢাকা: আজ ১৯ জুলাই আমাদের প্রিয় কবি,লেখক, ও কথা শিল্পী হূমায়ুন আহমেদ এর তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১২সালেরএ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়ার্কের ভেলভ্যু হাসপাতালে মাত্র ৬৪বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। লেখনির মাধ্যেমে তিনি যে চরিত্র গুলো সুষ্টি করতেন তা পাঠকের মধ্যে বাস্তবে রুপ নিতেন । পাঠকের কল্পনা শক্তিতে তার সৃষ্টি করা চরিত্র ধারন করতেন। হিমুর হলুদ পাঞ্জাবী আর উদাসিনতা এর একটি মাত্র উদাহরন। তার লিখা মানুষকে এতোটা আকষন করতে যে তার লেখা একবার পড়া শুরু করলে শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত ধরে রাখার সামর্থ্য ছিল। যা একজন লেখকের সবচেয়ে বড় পাওয়া। হুমায়ুন আহমেদের মত লোকের জন্ম হয় কিন্তু সৃষ্টি হয় না। জোসনায় স্নান বৃষ্টি বিলাশ ও ভোরের শিশিরের প্রেমের মধ্যে প্রকৃত উপলদ্ধি যিনি করতে শিখিয়ে গেছেন তিনি হুমায়ুন আহমেদ।

 তিনি ৩০০অধিক গ্রন্থ লিখেছেন এরমধ্যে আগুনের পরশ মনি,শ্যামল ছায়া,জোসনা ও জননীর গল্প,হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী,হিমুর বাবার কথা মালা,হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার, হিমুর নীল জোসনা, দেবী,নিশীথিনী,নিষাদ,অণীশ,বৃহন্নলা, বিপদ, মিসির আলীর অমীমাংসিত রহস্য,পারুল ও তিনটি কুকুর, নীল হাতি,অনন্ত নক্ষত্রবীথি,ফিহা, সমীকরন, আমাদের সাদা বাড়ী,মে ফ্লাওয়ার।

তার লেখার মধ্যেউপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, বৈজ্ঞানিকল্পকাহিনী, রম্য রচনা ও শিশুদের রচনা পর্যন্ত রয়েছে।তার রচনা সবগুলোর আর্থিক সাফল্য সমান না হলে ও হিংসে করার মতো সাফল্য তিনি পেয়েছেন।বাংলাদেশের লেখকদের মধ্যেতিনি,  জীবিত অবস্থায় কিংবদন্তিতে পরিণত            হয়েছিলেন।

হুমায়ুন আহমেদের সবচেয়ে বড়গুন ছিল সে তার সৃষ্টি করা চরিত্র গুলো মানুষের কাছে এমন ভাবে উপস্থাপন করত যে তার কল্পনার চরিত্র সবার ভেতরে বাস্তবে রুপ নিত। টিভিসিরিয়ালে  বাকেরভাইএর যে চরিত্রটি তিনি উপস্থাপন করেছিলেন তা এতই জীবন্ত হয়ে পরেছিলযে, নাটকের কাহিনীতে তার (বাকেরভাই) ফাঁসির আদেশ হলে সেই ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে মিছিল পর্যন্ত হয়েছিল। দর্শকমনে কতটা দাগ কাটলেতার সৃষ্টি চরিত্র বাকের ভাই তার ফাঁসি ঠেকাতে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। একজন লেখকের এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে? হুমায়ুনের হিমু কখন মরবে না সব সময় আমাদের মাঝে বিচরন করবে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলাধীন কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, লেখালেখি করতেন এবং তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ হন। মাতা আয়েশা আখতার খাতুনও লেখালেখি করেন। তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সব গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নশাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্টের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ছাত্রদের কাছে অনেক জনপ্রিয় শিক্ষক হলেও লেখালেখির কারণে তিনি অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে দেন এবং আমৃত্যু লেখালেখি করেন।