আজ শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন logo

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

কালো মেয়েদের কেন অবহেলিত হতে হবে ?

রাজু আহমেদ,

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

গায়ের চামড়া কালো হওয়ার অপরাধে জীবন দিতে হয়েছে একজন শিক্ষিকাকে । এটা দেশের একমাত্র ঘটনা নয় বরং এ ঘটনাটি মিডিয়ায় এসেছে বলেই আমরা জানতে পেরেছি । প্রত্যহ দেশের অসংখ্য স্থানে হাজারো নারীকে নির্যাতিন কিংবা অবহেলা করা হচ্ছে তাদের গাত্রবর্ণ সাদা নয় বলে । অবাক হতে হয় যখন শুনি, জ্ঞানালোকের এই যুগেও মানুষ বর্বরযুগের মানুষের চেয়েও জঘন্য আচরণ করে  ।

গায়ের বর্ণ যদি মানুষের ইচ্ছায় তৈরি হত তবে বিশৃঙ্খলার শেষ থাকতো না । মানুষের কাছে এ কর্তৃত্ব থাকলে প্রত্যহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাঁধত । আফ্রিকার নিগ্রোরা দাবী করত তারাই সুন্দর আবার ইউরোপের শ্বেতাঙ্গরা দাবী করত তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ হতে পারে না । আমরা যারা শংকর নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিভূক্ত তারা কৃষাঙ্গ কিংবা শ্বেতাঙ্গের যে কোন এক দলে ভীরে যেতাম । গায়ের বর্ণ কি হবে এটা নির্ধারণের অধিকার যেমন মানুষের নাই তেমন ব্যক্তি বিশেষের চোখে যা খারাপ/কুৎসিত তাকে খারাপ বলার অধিকার কারোরই নাই । শ্বেতাঙ্গরা যখন কৃষাঙ্গদের কালো কুঁচকুচকে ঘৃণার চোখে দেখে তখন কৃষ্ণাঙ্গরা শ্বেতাঙ্গদের ধবল রোগীর রঙকে মোটেই শ্রদ্ধার চোখে দেখে না । সুতরাং মানুষের শরীরের রংয়ের শ্রেষ্ঠত্বের সার্বজনীনতা কারো কাছ থেকে পাওযা যায় না । আমরা যারা কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা শেতাঙ্গের পক্ষপাতী তারাও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার না করে এক পক্ষেরই পক্ষপাতীত্ব করছি ।

আমাদের আবাসঞ্চলে সাধারণত সাদা চামড়ার মানুষের ওপর আমরা দুর্বলতা দেখাই এবং নিজে কালো হলেও কালোকে ঘৃণা করি । কাউকে কালো বলে ঘৃণা করলে সেটা স্বয়ং স্রষ্টাকেই দোষারোপ করার নামান্তর । কেননা সৃষ্টির ওপর মানুষের হাত নাই । কালোর ঔরসে যেমন ধবধবে সাদা শিশু জন্মাতে পারে তেমন শ্বেতাঙ্গের ঔরসে মিচমিচে কালো শিশু পৃথিবীতে অহরহ জন্মাচ্ছে । কাজেই কালোকে কালো বলে গালি দেয়ার অধিকার কারো নাই কেননা বিপরীতমূখী গালি এর জন্য তৈরি হয়ে আছে । কাজেই আল্লাহর সৃষ্টির বর্ণ বিবেচনায় কোন মানুষকে কুৎসিত বলে ঘৃণা করা কিংবা শ্রেষ্ঠ বলে মুকুট পড়িয়ে দেয়ার নৈতিক অধিকার কোন মানুষ/জাতির নাই কেননা সাদা-কালো উভয়ের স্রষ্টাই আল্লাহ । শুভ-অশুভ কিংবা কল্যান-অকল্যান যেমন বিপরীত মূখী হতে পারে কিন্তু মানুষের গাত্রবর্ণের ক্ষেত্রে সাদা-কালো কোন অবস্থাতেই বিপরীত মূখী নয় এবং হতেও পারে না  ।  

কালো মেয়েদের কেন অবহেলিত হতে হবে ? মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার মানসিকতাও কি আমরা দিন দিন হারিয়ে ফেলছি ? আজ আমাদের দেশে কালো বর্ণের মানুষগুলো যে উপেক্ষিত হচ্ছে তার দায়ও অবশ্যই আমাদের । কালো ছেলের পিতামাতা সর্বদা প্রতিযোগীতা করে তার কালো চামড়ার ছেলের জন্য ফর্সা চামড়ার একটা বউ জোগাড়ে আবার কালো মেয়েদের অভিভাবকরা যে কোন মূল্যে তাদের মেয়ের বরের সাদা চমড়া কামনা করে । বৈষম্যটা মূলত এখান থেকে সৃষ্টি । চামড়ার বর্ণ দেখার আগে মানসিকতার বিচার হওয়া উচিত । প্রবাদ আছে, ‘জাতের মেয়ে কালো ভালো’ । কালো চামড়া যদি সাদা চামড়ার সম্পর্কে জড়িয়ে নির্যাতিত/অবহেলিত হয় কিংবা প্রাণ দিতে হয় তবে চামড়ার এ বদল কিংবা কথিত শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে কি হবে ? সাদা-কালোর বৈষম্য ঘোচাতে আমাদের মানসিকতা বদলানোর কোন বিকল্প নাই । যতদিন মানসিকতা বদলানো না যাবে ততদিন এ বৈষম্যে সৃষ্ট ক্ষত দূর করার সাধ্যি কারো আছে বলে মনে হয়না । কালো-সাদার ওপর মনুষত্ব্যকে প্রধাণ্য দিতে হবে । চামড়ার বর্ণকে যারা মূখ্য মনে করে তারা হয় ঠকে নয়ত ঠকায় । কাজেই এদের থেকে দূরে থাকতে হবে । মনে রাখা উচিত, মানুষের পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় আর হয়না কিংবা হতেও পারে না ।