আজ সোমবার, ২৪ Jul ২০১৭, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন logo

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

ক্ষমা নয় মা অভিশাপ দাও !!

রাজু আহমেদ,

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

মা ! তোমার কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিতে হয়না । তুমি দোয়ার আধার । তবে তোমার কাছে দোয়া চাইবার অধিকার হারিয়ে ফেলেছি । তোমার কাছে কোন সাহসে আর দোয়া চাইবো ? সাহস লজ্জার নিচে চাপা পড়ে গুমড়ে কাঁদছে । ক্ষমা চাওয়ার অধিকারও আর আমাদের নাই । মা ! এবার অভিশাপ দাও । যত পারো অভিশাপ দিয়ে তোমার মন হালকা করো । তোমার অভিশাপ দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র । পুড়ে ভস্ম হয়ে যাক সকল পশু হৃদয় । ধ্বংস হয়ে যাক এ সভ্যতা । কি হবে এ সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রেখে ? যে সভ্যতায় সন্তানের সামনে মাকে বিবস্ত্র করা হয়, পাশবিক নির্যাতন করা হয় এবং ধর্ষণ করতেও পশুরা পিছপা হয়না । মোটেই দরকার নাই এই সমাজ-সভ্যতার । গোটা সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা আইন-সব কিছুই হারিয়ে যাক ধরা থেকে । সাথে যেন আমরাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাই । এ ভূমি এখন আর বাসযোগ্য নাই । ‍ধর্ষিতা মায়ের সন্তানেরা বিচার প্রার্থী হলে যদি তাদের গুলি খেয়ে মরতে হয় তবে কি দরকার এ সভ্যতাকে জিইয়ে রেখে । মা ধ্বংস চাও ! ধ্বংস !! জানি তুমি মায়ার আধার । তুমি ধ্বংস চাইতে পারবে না তাই আমিই আমার ধ্বংস চাই । আমার জন্মদাত্রী মা যখন টাঙ্গাইলের ঘটনা পত্রিকায় পড়বে কিংবা টিভিতে দেখবে তখন আমি আর তার সামনে কোনদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না । তাই এখন আমার ধ্বংস অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । মা ! আমি আকাঙ্খিত মহাপ্রলয়ের প্রহর গুনছি । যে মহাপ্রলয় ধ্বংস করে দিয়ে যাব সব অমানিবকতা, পশুত্ব, বর্বরতা ।

মা ! তুমি বিষ পান করবে কেন ? বিষ তো পান করবে তোমার সেই কুলাঙ্গার সন্তানগুলো যারা মানুষের দেহাবিশিষ্ট হলেও আসলে মানুষ নয় । যে পশুগুলো মা-ছেলেকে একত্রিত করে বিবস্ত্র করতে পারে, সন্তানের সামনে মাকে পাশবিক নির্যাতন করতে পারে-বিষ তো ওরাই খাবে, খেতে বাধ্য হবে । মা, তোমার রক্তাক্ত দেহ যখন রাস্তায় পড়েছিল, বিশ্বাস করো সেখানে আমি বাংলার ভবিষ্যতকে দেখেছি । কর্তৃত্বশীলদের দ্বারা কিভাবে মাতৃত্বের, নারীত্বের অপমান হতে পারে তার চিত্র দেখেছি । মা ! তোমাকে যারা নির্যাতন করেছে ওদেরও কোন না কোন মা জন্ম দিয়েছে । তুমি বিশ্বাস করো, সেই মায়েদের কাছেও যদি তার ঐ কুলাঙ্গার সন্তানদের নিয়ে জানতে চাওয়া হয় তবে তারা আফসোস করে বলবে, সন্তান বড় হয়ে এমন পশু হবে তা যদি দুঃস্বপ্নেও জানতেন তবে জন্মের পরেই ওদের লবন মুখে দিয়ে মেরে ফেলতেন । মা ! তুমি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বিষ পান করে লজ্জা লুকাতে চেয়েছো কিন্তু আমাদের কিছু বলে যাওনি কেন ? আমরা কিভাবে আমাদের লজ্জা নিবারণ করবো ?

মা ! তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভাষা কিংবা সাহস কোনটাই নাই । তবে তোমার কিছু সন্তান জাগতে জানে । গুলি কিংবা কারো লাল চক্ষুকে ওরা ভয় পায়না । তোমার পক্ষে হাজার নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমেছে । তোমার ওপর যে নির্মমতা হয়েছে তার বিচারের দাবীতে ৩টি প্রান বলি হয়েছে । অর্ধশতাধিক মানুষের রক্ত মাটিতে গড়িয়েছে । মা ! তবুও কেউ দমে নি । কাল টাঙ্গাইলের দু’টো উপজেলা জেগেছিল কিন্তু আজ হয়ত গোটা বাংলাদেশ জাগবে । তোমার সাথে যে অন্যায় হয়েছে তার বিচার হবেই হবে মা । যারা ন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে তারা খড়কুটোর মত ভেসে যাবে । মাতৃত্বের সম্মান কোনভাবেই ভূলণ্ঠিত হতে দেব না । যারা তোমার সাথে খারাপ আচরণ করেছে তারা হয়ত ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিল যে ওরাও কোন মায়ের গর্ভে লালিত হয়ে ভূমিতে এসেছে । পশুরা ভুলে গেলেও মা এদেশের বিচারকরা তা ভুলে যাবে না, সত্যের সারথীরা মোটেও পিছপা হবে না । এদেশের ভালো মানুষগুলো ভালো মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছে । তারা নিশ্চয়ই মায়ের সম্মান খর্বিত কিংবা ভূলন্ঠিত হতে দেবে না, দিতে পারে না । মা ! মিনতি করে বলছি, একটু ধৈর্য্য ধারণ করো । নরপশুদের ক্ষমা করতে বলি না তবে তোমার সন্তানদের শক্তি-সাহস যাতে অটুট থাকে তার জন্য একটু প্রার্থণা করো । নরপিশাচদের শাস্তি দিয়েই যেন তোমার ছেলেদের মরণ হয় ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
facebook.com/rajucolumnist/