আজ শনিবার, ২২ Jul ২০১৭, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন logo

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

পবিত্র ঈদুল আজহা কাল

নিউজ ডেস্ক,

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মানব জাতিকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করতে প্রতিবছর মুসলমানদের জীবনে এ উৎসবের আগমন ঘটে। এ দিনটি মানব জাতিকে ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে উৎসাহিত করে।
মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার বছর আগে মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ শিশুপুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্য দিয়ে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের এ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। সেই থেকে প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন মুসলমানরা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা দেশাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এর আগে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য সকাল ৮টায় সেখানে পৌঁছবেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গভবনের মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে বুধবার রাষ্ট্রপতির ঈদের দিনের এ দুটি কর্মসূচির কথা জানান হয়েছে।
বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীকাল শুক্রবার দিনের শুরুতেই ঈদগাহে বা মসজিদে সমবেত হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় কোরবানির তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক কাতারে নামাজ আদায়, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব শেষ করে নিজ নিজ পশু কোরবানি করবেন। এদিনে অশ্রসিক্ত হয়ে অনেকেই যান কবরস্থানে, বাবা-মাসহ প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায়।
ধর্মীয় বিধান মতে, কোরবানি করা শর্তসাপেক্ষে ওয়াজিব। অর্থাৎ বিত্তশালী ব্যক্তির ওপরেই কোরবানি ওয়াজিব। কোরবানির ব্যাপারে পবিত্র কোরআন শরিফের সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের জবাই করা পশুর রক্ত, গোশত, খুর, পশম কিছুই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে না, আল্লাহর দরবারে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (খোদাভীতি)।’
‘ত্যাগ’ ছাড়া আরও ঈদুল আজহার আরেকটি বড় শিক্ষা হল আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া। যে কারণে জবাই করা পশুর গোশতের একটি অংশ গরিব-দুঃখীর মাঝে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। এর বাইরে কোরবানিদাতার নিকটাত্মীয়ের মাঝেও গোশত বিতরণের নির্দেশনা আছে। কিছু হাদিসে বণিত আছে, কোরবানির মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে হবে, একভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মঝে বিতরণ করতে হবে এবং বাকি অংশ কোরবানিদাতার।
১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা শুরু হয়। মোট তিন দিন পশু কোরবানি করা যায়। সেই হিসেবে ১১ ও ১২ জিলহজও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত কোরবানি করা যায়।
এই ঈদের অন্যতম আকর্ষণ পশু। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র পশুর হাটগুলো ছিল জমজমাট। এবার অন্য বছরের চেয়ে গরুর ও ছাগলের সরবরাহ শুরু থেকেই ভালো। কোনো কোনো হাটে পওয়া যাচ্ছে উট। দরদামও বেশ স্বাভাবিক বলেই জানা গেছে। এরই মধ্যে অনেকেই কোরবানির পশু ক্রয় করেছেন।
ইতিমধ্যেই দেশের সব ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদ ঈদের জামায়াতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভগি করার জন্য শত বিড়ম্বনা ও কষ্ট উপেক্ষা করে নিজ নিজ ঠিকানায় ফিরেছেন।
এখন পর্যন্ত মহাসড়কে বিড়ম্বনা তুলনামূলক কম বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপরও মূলত মহাসড়ক দখল করে পশুর হাট বসানো এবং ঢাকামুখী পশুর ট্রাকের কারণে এ অযাচিত বিড়ম্বনা বলে জানা গেছে। আর এ কারণে এবারও অন্য বছরের মতোই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের শিকার হয়েছেন ঘরমুখো লাখো মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে যাওয়ার প্রধান দুই ফেরিঘাট মাওয়া এবং পাটুরিয়ায়ও যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘরমুখো মানুষদের। লঞ্চের অবস্থা এবার তুলনামূলক কিছুটা ভালো হলেও মানুষের ভোগান্তিও ছিল। এদিকে এবারও বাসের সিডিউলে বিপর্যয় ঘটেছে। বিপর্যয় এড়াতে পারেনি ট্রেনের সিডিউলেও। তারপরও ঈদের আনন্দ উপভোগে যারা নাড়ির টানে ফিরছেন চিরচেনা আঙ্গিনায় পরিবার পরিজনের কাছে পৌঁছোতে পারলেই সেই আনন্দের স্বার্থকর্তা।
বরাবরের মতো এবারও ঈদের দিনসহ ছুটির দিনগুলোতে রাজধানী ও এর আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে সবার জন্য। নানা আনন্দ আয়োজনে সজ্জিত বিনোদন কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থী জন্য প্রহর গুনছে।