আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৫২ অপরাহ্ন logo

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৫, ০১:১১ অপরাহ্ন

শিশু ধর্ষণ বন্ধ হোক-বন্ধ করুন

রাজু আহমেদ

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

যৌনতাকে কোন ভাবেই নোংরামী মনে করার সাধ্য নাই যদি সেটা পরাধীন হয় । যৌনতার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা-পরাধীনতা দ্বারা এর বৈধতা-অবৈধতা বুঝাতে চাচ্ছি । কেননা মনোবিদ সিগমন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, ‘যৌন পরাধীনতা না থাকলে সভ্য সমাজে স্বীকৃত বিবাহপ্রথা অর্থহীন হয়ে যেত । তখন দেখা দিত উদাম যৌনাচার যা আগামী প্রজন্মকে এক জারজ সভ্যতার অনুগামী করে দিত’ । জৈবিকা চাহিদা পূরণে বিষয়টি মানুষের শারীরিক চাওয়া । কিন্তু প্রজন্ম এ চাওয়া পূরণে কোন পথে হাটছে ? জৈবিক চাহিদা পূরণে ব্যাপারে নারী-পুরুষের সম্মতিই কেবল এ সম্পর্ককে বৈধতা দিতে পারে না বরং এক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতিও আবশ্যক ।

আজ জৌরপূর্বক জৈবিক চাহিদা পূরণ নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবো । কোন একজনের মন-মতের বিরুদ্ধে তাকে জৈবিক চাহিদা পূরনে হেনস্তা করলে সেটাই ধর্ষণ । আর ধর্ষণকারীকে ধর্ষক বলা হয় । ধর্ষণকে কেন্দ্র করে পশুবৃত্তি ও মানববৃত্তির মধ্যেও তুলনা চলে না কেননা পশু কখনো তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন আক্রমন করে না । অথচ মানুষ এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি অহরহ ঘটাচ্ছে । বর্হিবিশ্বের নারী/পুরুষ উভয় লিঙ্গ থেকে তার বিপরীত লিঙ্গ আক্রমিত হলেও আমাদের দেশে শুধু পুরুষ থেকেই নারীর প্রতি যৌন আক্রমনের ঘটনা ঘটে । বাকরুদ্ধ হয়ে স্তব্ধ হতে হয় তখন যখন শুনতে হয় একজন বয়স্ক পুরুষ দ্বারা ১০ কিংবা তার চেয়েও কম বছরের শিশু ধর্ষিতা হয়েছে । ধর্ষণ সর্বাবস্থায় ঘৃণিত কিন্তু শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে ঘৃণার কতটুকু প্রয়োগ করা উচিত তা নির্ধারণ করা আবশ্যক এবং শিশুদেরকে যারা ধর্ষণ করে সে সকল ধর্ষকদেরকে আইনের আলাদা ধারার মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী ।

আমি ছোট বেলায় মাঝে মাঝে মাঠে গরু চড়াতাম । যৌনতা নিয়ে গরুর কিংবা অন্য কোন পশু জাতীয়ের বাড়াবাড়ি দেখেছি এমনটা মনে পড়ে না । জৈষ্ঠ্য মাসে গরু এবং ভাদ্র মাসে কুকুর তার জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য তাড়িত হয় । এখান তাদের জৈবিক চাহিদা পূরণ যতটা উদ্দেশ্য তার চেয়ে বেশি উদ্দেশ্য তাদের প্রজন্ম উৎপাদন । অন্যান্য পশুদের বেলায়ও অনৈতিক কিংবা জোর করে যৌনাচার সংগঠনের সংখ্যা একেবারেই কম । কোন পশু তার বিপরীত লিঙ্গের পশুর প্রতি জোরপূর্বক বলৎকার করে এমনটা কালেভদ্রেও দেখা-শোনা যায়না । অথচ মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব হয়েও এদের মধ্যের কিছু সংখ্যক তার বিপরীত লিঙ্গের প্রতি পশুর চেয়েও জঘন্য আচরণ করে । এখন তুলনাটা পশুবৃত্তি আর মানববৃত্তির মধ্যে চলে না কেননা মানববৃত্তি পশুবৃত্তির চেয়েও অনেক জঘণ্য স্থানে দাঁড়িয়েছে ।

গত দু’দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, বরগুনায় ছয় বছরের একটি শিশু হাসপাতালে তার মায়ের কোলে শুয়ে কেবল গোঙাচ্ছে । শিশুটিকে পুরুষরূপী হায়েনা ধর্ষণ করেছে । মাত্র ৬ বছরের শিশুর এ ঘটনাটাই দেশের একমাত্র ঘটনা নয়; ৩ বছরের শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিশু ধর্ষণের খবর প্রায় পত্রিদিন পত্রিকার পৃষ্ঠায় কিংবা অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় । এ সংবাদ দেখে একজন পুরুষগোত্রীয় হিসেবে তখন লজ্জায় মুখ লুকিয়ে ফেলতে চেষ্টা করি । কেন মানুষের এমন অধঃপতন? জৈবিক তাড়নায় পশুর চেয়েও জঘন্যভাবে মানুষকে তাড়িত হতে হবে কেন ? অবশ্য এ সকল হায়েনার সাথে পশুরও তুলনা চলে না কেননা এরা পশুর চেয়েও অজস্রগুন বেশি খারাপ কিন্তু তুলনা তো কিছু একটার সাথে দিতে হবে । ওদের নিয়ে এই তুলনা কোন পশুর সাথে নয় বরং পশুত্বের সাথে । পশুত্বভাব শুধু পশুর জন্য বিশেষায়িত নয়, মানুষও যখন নীতি-বিরুদ্ধ কাজ করে তখন সেটা পশুত্বকেও হার মানায় ।

বিবেকের কোন স্তর জাগ্রত হলে শিশু ধর্ষনের সংখ্যা শুণ্যে নেমে আসবে তা আমার জানা নাই । ধর্ষণের ক্ষেত্রে অনেক সময় নারীর পোশাক, হাটা-চলা কিংবা অঙ্গভঙ্গীকে দায়ী করা হয় । কিন্তু শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে কি দায়ী করা হবে ? মূলত, আমাদের নৈতিক ও মানবিক অধঃপতন ঘটেছে । অসুস্থ জৈববৃত্তি মানুষ তথা পুরুষের একাংশকে পশুর চেয়েও জঘন্য করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে । শিশুর প্রতি হায়েনাদের লোলুপ দৃষ্টি বন্ধে শাস্তির তীব্রতা ও ভয়াবহতা বাড়াতে হবে । বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টার দিন বোধহয় ফুড়িয়ে এসেছে । যে নরপশু ছোট্ট-পবিত্র শিশুকে ধর্ষণ করতে পারে ওর বিবেকবোধ পঁচে মরে গেছে । কাজেই সমাজের এসব পচনশীল আবর্জনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এমন দায় বোধহয় রাষ্ট্রের নাই । পিশাচদেরকে চিহ্নিত করে ওদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা আশু আবশ্যক কেননা পবিত্র শিশুর প্রতি যৌন সংহিসতা যে কোন মূল্যে বন্ধ করতেই হবে । কোমলমতি শিশুদের আপন মহিমায় বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব । শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সকল অভিভাবককে রুখে দাঁড়ানোর এখনই উত্তম সময়  ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
facebook.com/rajucolumnist/