আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন logo

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৫, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

দুচিন্তা কাটছেনা টাঙ্গাইলের তাঁতীদের

জিয়া হোসেন

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

টাঙ্গাইলঃ পুজায় সরগরম হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প। জেলার শারুম ও শপিং সেন্টার গুলোতে পুজা উপলক্ষে তাঁত শাড়ির বিক্রি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পুজাকে কেন্দ্র করে তাঁত শিল্পে তেমন কোন প্রভাব না পরলেও এবার হঠাৎ করেই শাড়ীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অবাক হয়েছেন তাঁতিরা।

তারা বলছেন, এর আগে পুজাতে কখনই তাদের ব্যবসায় প্রভাব পরেনি এবার চিত্রটা পাল্টে গিয়েছে। কোরবানির ঈদের সময় চাহিদা অনুপাতে বেঁচাকেনা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আর তাই তাদের ঘরে থেকে যায় হাজার হাজার অবিক্রিত শাড়ী। যে শাড়ী গুলোতে তাদের এই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা আবার কোন শাড়ীতে ১শ’ টাকা মুল্য হ্রাস পেতো অথচ সেই অবিক্রিত শাড়ী গুলোই এখন আর্শিবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে তাদের কপালে। সীমিত লাভ হলেও অবিক্রিত অধিকাংশ শাড়ীই বিক্রি হয়ে গেছে। তারপরও দুশ্চিন্তা পিছু ছারছেনা তাদের। কারন পুজার পরেই শুরু উৎপাদন শুরু হবে চরম মন্দা। আগামী ঈদ পর্যন্ত ব্যাংক, এনজিও ও স্থানিয় সমিতির কাছে থেকে ঋণ নিয়ে তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আর যাদের ধারদেনা করার কোন ব্যবস্থা নেই তাদের তাঁত বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশেষত নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্ত তাঁতিদের অধিকাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় সচ্ছল তাঁতিদের যারা ৭০ থেকে ৮০ টি তাঁতের মালিক তাদেরও ২০ থেকে ২৫ করে তাঁত বন্ধ হয়ে যাবে। এমনটিই জানিয়েছেন তাঁত মালিকরা।

জয়নাল মুন্সি নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের সময় যে শাড়ী গুলো আমাদের অবিক্রিত ছিল সেই শাড়ী গুলো আসন্ন পুজা উপলেক্ষে বিক্রি হয়ে গেছে। এবার পুজার বেঁচা কেনা বেশ ভালোই চলছে। তবে জেলার বাইরের শ্রমিকরা এখনও কর্মক্ষেত্রে ফিরে না আসায় উৎপাদন শুরু হয়নি।

মমিুনর রহমান নামের এক তাঁত মালিক জানান, ঈদের পূর্বে যে ঘাটতি ছিল পুজার বেঁচাকেনায় সেই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পুজাকে কেন্দ্র করে শাড়ী বিক্রি ভালো হলেও পুজার পরেই দীর্ঘ সময়ের জন্য মন্দা শুরু হবে। আর তাই বাধ্য হয়েই প্রতিটি শাড়ীতে শ্রমিক মজুরি ৫০ থেকে ১শ’ টাকা কমিয়ে দিয়েছি। পুরোদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হলে বেধে দেয়া এই শ্রমিক মজুরিতেই কাজ করতে হবে শ্রমিকদের।

এদিকে সরজমিনে করটিয়া, বাজিতপুর ও জোকেরচর হাটে গিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধুলটিয়া, বাজিতপুর, সুরুজ, বার্থা, বামনকুশিয়া, ঘারিন্দা, গোসাইজোয়াইর, তারটিয়া, এনায়েতপুর, বেলতা, গড়াসিন, সন্তোষ, কাগমারী প্রভৃতি ও দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চন্ডি, নলুয়া, দেওজান, নলশোঁধা, বিষ্ণুপুর, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, ছাত্তিহাটি, আইসরা, রতনগঞ্জ কোবডোরা প্রভৃতি গ্রামের তাঁতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের পুজায় সিল্ক আইটেমের শাড়ীটা বেশি চলছে। বিশেষত হাইব্রিট নামের শাড়ী। অন্যান্য শাড়ী গুলোর মধ্যে রয়েছে, জামদানি, বালুচুরি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, গ্যাস সিল্ক, ডেঙ্গু, শপসিল্ক, ডেঙ্গু, রেশম, তশর, ফোরফ্লাই, কাতান, শাপাইরা, একতারি দোতারি, মনপুরা, এমব্রয়ডারী পাখি, ইত্যাদি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুজাতে প্রতিবছর এভাবে বেঁচাকেনা হলে তাঁত শিল্পে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হবে। আর পরবর্তি দিনগুলো আরও ভালো কাটবে সেই প্রত্যাশা করছি। তবে সেই সাথে তারা তাঁত শিল্পের উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।