আজ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৫৩ অপরাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৫, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

সকল মাধ্যমে অভিনয় করতে আগ্রহী

জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মাইম আর্ট এর পরিবেশনায় ১৫ অক্টোবর ২০১৫ সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন হবে মাইম আর্ট এর প্রযোজনায় নিথর মাহবুব এর একক মূকাভিনয় লাইফ ইজ বিউটিফুল। কথা হয় তাঁর সঙ্গে -

“লাইফ ইজ বিউটিফুল” সম্পর্কে বলুন?

“লাইফ ইজ বিউটিফুল” মঞ্চে আসার পর অনেক সারা পেয়েছি। ২০১১ সালে মাইম আর্টের প্রযোজনায় এক ঘন্টার একক মূকাভিনয় প্রযোজনাটি মঞ্চে আসে। এই প্রযোজনাটি তরূণ সমাজের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এটি বাংলাদেশে দেশের পেশার সম্মান বাড়ানোর লক্ষে আমার আন্দোলন।

মূল গল্পটি সম্পর্কে বলুন?

লেখা-পড়া শেষ করে এক যুবক চাকরির সন্ধান করতে থাকে। ঘরে তার অসুস্থ মা। হাটে-বাজারে খেলা দেখিয়ে কোনোরকম চলে সংসার। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তার মা মারা যায় অপর দিকে প্রেমিকাকেও হারাতে হয় দারিদ্রতার কারনে। ছুটে আসে শহড়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে। কিন্তু অনেক চেষ্টায়ও যখন চাকরি মিলে না। তখন হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় আত্মহত্মা করবে। ফঁসির দড়ি গলায় পরতে গিয়ে তার মনে পরে যায় শৈশব কৈশরের কিছু স্মৃতি। জীবনের প্রতি মায়া ধরেযায় তরুণের। মানষিক শক্তির বলে ফিরে আসে ফাঁসির মঞ্চ থেকে। নিজের অর্জণ করা সমস্ত সার্টিফিকেটগুলো ছিড়ে কুচিকুচি করে আগুণে পুড়িয়ে পুণরায় শুরুকরে জীবন যুদ্ধ। ইট ভাঙ্গা দিয়ে শুরু করে , হকারি, ঠেঁলা গাড়ি , কন্টাক্টারি এই ভাবে ক্রমশ পেশার উন্নতি ঘটিয়ে একসময় জীবনে সাফল্য আসে তার। সাফল্যের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে যুবক উপলব্ধি করে, জীবনে দুঃখ-কষ্ট,হতাশা, আনন্দ যাই আসুক; বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহুর্তই আনন্দের এবং জীবন সুন্দর।

সামনে মাইম আর্ট এর কর্মসূচি কী?

২৫ আক্টোবর মাইম আর্ট বাবিতঘর নাটকের দলের ইৎসবে মূকাভিনয় প্রযোজনা  “যেমন কর্ম তেমন ফল” মঞ্চায়ন করবে। ৬ নভেম্বর ময়মনসিংহে শান্তি মৈত্রি সেবামূলক সংগঠনের আয়োজনে মূকাভিনয় উৎসবে আবার “যেমন কর্ম তেমন ফল” মঞ্চায়ন হবে। এছারা দলে আমরা একটি মঞ্চ নাটক নিয়ে কাজ করছি। “ডিগবাজি” নামের এই নাটকটি আমার লেখা নির্দেশনাও আমি দিচ্ছি। এছারা আমি রেপার্টরি থিয়েটারে কাজ করছি। এই দলের “লালজমিন নাটকটি নিয়ে আগামী মাসে ঢাকার বাইরে ৩টি প্রদর্শণীতে অংশগ্রহণ করব।

টিভি নাটকে আপনি অনিয়মিত কেন?

মূকাভিনেতা হলেও সকল মাধ্যমে অভিনয় করতে আগ্রহী আমি। এখন কাজ পেতে হলে পরিচালক প্রযোজক দের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। সাংবাদিকতা করি বলে এই কাজটি করতে গেলে নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়। অভিনয় আমার ধ্যান ধারনা যেনে সেচ্ছায় যারা ডাকে তাদের কাজ করি।

মূকাভিনয় শিল্পের বিকাশে কী কাজ করছেন?

আমার দল মাইম আর্টে প্রতি তিনমাস পরপর মূকাভিনয় কর্মশালা চলছে। এর মাধ্যমে অনেক নতুন মূকাভিনয় শিল্পী তৈরি হচ্ছে। এছারা ২০১২ সাল থেকে ব্র্যাক এর মূকাভিনয় কর্মসূচির প্রধাণ রিসোর্স পার্সণ হিসেবে কাজ করছি। লেখাপড়াকে আনন্দদায়ক করার জন্য ব্র্যাকের ১৭ হাজার ৮২৬টি স্কুলে শেখানো হচ্ছে মূকাভিনয়। যেখানে মোট শিক্ষার্থী ছয় লাখ ৮১ হাজার ৫০৩ জন। এই শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামী বছর মূকাভিনয় প্রতিযোগিতা হবে। আশা করছি আগামী পাঁচবছর পর মূকাভিনয় জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া জাগাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মূকাভিনয়ের অবস্থা সম্পর্কে বলুন?

অনেক ভাল অবস্থা, আমার দলেই এখন বেশ কিছু ছেলে-মেয়ে আছে যারা মণে-প্রাণে ভাল বেসে মূকাভিনয়ের চর্চা করছে। এবং তারা বেশ ভাল করছে। তাদের মধ্যে আছে, ফয়সাল, টুটুল, মুনিয়া শুভ, সুধাংশু, অমরেশ, শ্যামল, প্রমুখ। এছারা ঢাকায় এখন প্রায় ১০টির মতো দল মূকাভিনয় নিয়ে কাজ করছে। এসব দলেও অনেক ছেলে-মেয়ে ভাল কাজ করছে।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

দেশে পেশার সম্মান বৃদ্ধি করার লক্ষে কাজ করতে চাই। তরুণ সমাজকে বুঝাতে চাই, যে যে পেশা দিয়েই কর্মজীবন শুর করুক না কেন লক্ষে পৌছার পর ছোট-খাট পেশার কাজগুলো হবে তার জীবনের অলংকার। আমাদের সমাজে ছাট-খাট পেশার সাথে যুক্ত মানুষগুলোকে অমর্যাদা দৃষ্টিতে দেখা হয় বলে লেখা-পড়া শিখে ছেলেমেয়েরা ছোট-খাট পেশায় যুক্ত না হয়ে বেকার বসে থাকে। পেশার সম্মান বৃদ্ধি পেলে তারা বেকার থাকবে না, হতাশাগ্রস্থ হয়ে তরুনসমাজ বিপথগামী হবে না। দেশকে ভালবাসলে দেশের উন্নতি চাইলে প্রতিটি পেশার মানুষকে সম্মান দিতে হবে।