আজ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৫৬ অপরাহ্ন logo

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

ঈদে বোনাস পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা মোজাম্মেল হক এমপি

জনতার নিউজ’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন শেখ লিমন ও আহমাদ শ্রাবণ।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে কিনা?
আগামী বছর ঈদ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়াও আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিটা কবর বাঁধাই করার ব্যবস্থাও করছি। দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই ডিজাইনে বাঁধাই করা হবে। কবরগুলো খুব মজবুত হবে যেন ১০০ বছর টেকে। কেউ কবর দেখলেই যেন বুঝে এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। এছাড়াও মিত্র বাহিনীদের সম্মানার্থে আমরা একটি স্মৃতিসৌধ করতে যাচ্ছি। তাছাড়া যত বধ্যভূমি আছে সব সংরক্ষণ করা হবে। আমাদের পাঠ্যপুস্তকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের কথা থাকবে ঠিক তেমনি যুদ্ধাপরাধীদের কথাও উল্লেখ থাকবে।

গত ঈদে অনেক সড়ক দুর্ঘোটনা ঘটেছে, সড়ক নিরাপত্তায় কোরবানির ঈদে এ সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
এবার একটানা বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমারা দ্রুত চেষ্টা করছি, ঈদের আগেই যেন সেগুলো মেরামত করে চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা যায়। গত ঈদে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এবার বর্ষার কারণে অনেক পানি, তাই যেন কোনো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এই বিষয়ে সরকার খুবই যত্নশীল। সমস্ত কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওভারলোড যাত্রী যেন না নেয় আর ট্রিপ সংখ্যা যেন বাড়ানো হয় সেজন্য আমাদের মাননীয় নৌমন্ত্রী মহোদয় আলোচনা করেছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও কিভাবে বগি বাড়িয়ে দেয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করছে।

কোরবানির পশু নিয়ে এবার সংকট হওয়ার সম্ভাবনা শোনা যাচ্ছে আসলে কি?
কোরবানির পশু নিয়ে একটা গুজব চলছে যে গরু সংকট হতে পারে, এটা একদমই ভুল। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হচ্ছে এবং ভারত থেকেও প্রচুর পরিমাণ গরু আসছে। অন্যবারের মতোই হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরু থাকবে। এবং অন্যান্য বছরের মতোই কোরবানির পশুর দাম স্বাভাবিক থাকবে।

বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করার ফলে কখনো কখনো কোরবানির পশুর সংখ্যা এতটা বেড়ে যায় আমাদের দেশের  কৃষকরা ন্যায্য দাম পায় না কেন?
কি পরিমাণ কোরবানির পশু আমদানি হচ্ছে বলা যায় না। বৈধ ও অবৈধ দুই ভাবেই আসে। তাই এ বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ঈদ ভাবনায় নতুন কিছু চিন্তা করছেন কিনা বা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা?
না, ঈদ উপলক্ষে নতুন কোনো পদক্ষেপ নাই। তবে মুক্তিযোদ্ধরা এখন বছরের ভাতা পাননি। তারা কেন ঈদের পূর্বে তিন মাসের ভাতা পায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি ১৫ তারিখের মধ্যেই যেন পেয়ে যায়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় অফিস করে, রাতে কাজ করে ১৫ তারিখের মধ্যেই তাদের ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বইপুস্তকে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস চলে আসছে।

নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের তুলে ধরতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো চিন্তা কি আছে?
আমরা প্রতিটা জেলায় উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স করেছি, সেখানে মিনি জাদুঘরও আমরা রাখব। এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইপুস্তকও থাকবে। যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে জানতে পারে। এবং একই সাথে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যারা ছিল তাদের কি ভূমিকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটাও আমারা তুলে ধরব।

অনেকেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছে এরকম অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়  আপনারা কি সেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করতে পেরেছেন? বা এরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কিনা?
এই নিয়ে আমরা কাজ করার সুযোগ পাইনি। তবে যদি কোনো অভিযোগ আসে তবে সেগুলো তদন্ত করা হবে। আপনারা এরই মধ্যে দেখে থাকবেন  যারা খুব উচ্চ পর্যায়ের  তাদের নাম পত্রিকায় আসে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে। যারা অংশগ্রহণ যথার্থ ভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে আমরা তাদের সনদ বাতিল করেছি।

আমরা তরুণ প্রজন্ম আগামী ১৫-২০ বছর পর আর কোনো মুক্তিযোদ্ধাদের পাব না। তো এমনকি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যার মাধ্যমে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করা আসবাবপত্র বা অন্যান্য স্মৃতিমূলক কিছু দেখে নিজেদের সান্ত্বনা দেব?
ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর করা হচ্ছে। সরকার ও প্রাইভেট কোম্পানিরে যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, গৌরব উজ্জ্বল তথ্যবলি ও তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংগ্রহ করার উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে দেখা যায় যে অনেক গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার অবহেলিতভাবে জীবনযাপন করছেন। এই বিষয়ে কি কিছু ভাবা হয়েছে?
নিঃসন্দেহে এটা সত্য। তবে পত্রপত্রিকায় যা উঠে এসেছে এর বেশিভাগই মুক্তিযোদ্ধা দাবিদার। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছে বা কেউ পাক বাহিনীর দ্বারা নিহত হয়েছেন। তারা মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পড়ে না। আমরা দুইরকম সংজ্ঞায় ব্যাখ্যা করেছি। একটা হলো মুক্তিযুদ্ধে সমর্থক ও আরেকটা হলো সরাসরি সংগ্রাম। সংগ্রামে যারা সরাসরি জড়িত যেমন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিল্পী, বেতার শিল্পী, ডাক্তার, নার্স, উনারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। কারণ তারা না থাকলে তো রাষ্ট্র তখন চলত না। শুধু যোদ্ধা দিয়ে তো আর হয় না, সবাইকেই লাগে। এবং বীরাঙ্গনাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আসলে সংজ্ঞা না থাকার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। আর জালিয়াতি করে, ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব নিয়েছে। আর কমান্ডারদের নমুনা স্বাক্ষর না থাকায় এই জালিয়াতি করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও আর্থিক লেনদেন ছিল, স্বজনপ্রীতি ছিল, এমন নানাভাবে যারা মুক্তিযোদ্ধা না তারাও তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি স্থগিত রয়েছে। রায় পেলেই আবার তা শুরু হবে।

আমরা দেখতে পাই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তন হয়। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পান্ডুলিপি আকারে প্রকাশের কোনো উদ্যোগ কি নেয়া হয়েছে।
পূর্ণ ইতিহাসটি বলা কঠিন। অনেকটা অন্ধের হাতি দেখার মতো। আমি যততুকু দেখেছি, তাই বলতে পারব। যে যেভাবে দেখেছে সে সেভাবে লিখছে। আর যারা লিখছে তারা আত্মকেন্দ্রিকভাবে শুধু নিজের ভূমিকাটাই লিখছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের দলিল যেটা সেটা অনেক তথ্যনির্ভর। বাংলা একাডেমিও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি বই বের করেছে। এভাবেই সঠিক ইতিহাসটা বের হয়ে আসবে। তেমনিভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তাদের কথাও লেখা থাকবে। বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১০০ নম্বর থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধাদেরদের আবাসন নিয়ে যে পরিকল্পনা হচ্ছে তা নিয়ে কিছু বলুন?
আমরা এ বছর ১০ হাজার বাড়ি তৈরি করব। ২০ জনে ১ জন করে বণ্টন হবে। ৪ তলা করে ভবন তৈরি হবে। এর জন্য কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বণ্টন করা হবে।