আজ সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০১৫, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

আজ মহাসপ্তমী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকা: আজ মহাসপ্তমী। শারদোৎসব। শরৎকালে দুর্গতিনাশিনীর আগমনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এ উৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বজনীনতায় উন্নীত করেছে। শরৎকালের দুর্গোৎসব শুধু উৎসব নয়, মহা-উৎসব।

শুভের আগমনী গান বাংলার প্রকৃতিময় প্রতিফলিত হচ্ছে। দেবীকে বরণ করে নিতে প্রকৃতি, দোয়েলের ডাক, কাশফুল, শিউলী ঝরার শব্দ এরা সবাই অপেক্ষা করছে। শরৎ ঋতু ঘোষণা দিচ্ছে মায়ের পূজার সময় হয়েছে। শরৎকালে রামচন্দ্র দুর্গা মায়ের পূজা করেছিলেন বলে এ শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয়।

অন্যদিকে শরতের দুর্গাপূজাকে অকালবোধনও বলে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রামচন্দ্র সঙ্কট থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের দেখালেন মায়ের পূজা করে আমরা সঙ্কট থেকে মুক্ত হতে পারি। মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব। পশুর যা নেই তা মানুষের আছে। সমৃদ্ধ প্রকৃতির বাংলাদেশে বিবেক, জ্ঞান, অন্যের কল্যাণে আত্মনিয়োগ, ধর্মপ্রবণতা বাঙালির মনের স্বাভাবিক ধর্ম।

সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে কবি-সাহিত্যিকের মানসপটে ছবির মত ভেসে ওঠে শরতের প্রকৃতি। বর্ষার পরে ভরা নদী কুলকুল ধ্বনিতে আনন্দে করতালি দিচ্ছে। ঘাস শরতের শিশিরে ভিজে মায়ের পা ধুইয়ে দেবে। আর ধরণী তার সবুজ আঁচলে পা মুছে দেবে। বাঙালির হৃদয়কে এরকম দৃশ্যের দেশে, আনন্দের দেশে টেনে এনেছেন কবি। এ প্রকৃতি বরণ ডালা নিয়ে বরণ করতে প্রস্তুত।

এদিকে আজ থেকে মহাসপ্তমীকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দেশের প্রতিটি পূজা মন্দিরে চলবে উৎসবের আমেজ।

এবার সারাদেশে ২৮ হাজারেরও বেশি পূজা মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২০০টিরও বেশি পূজা মন্দির রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অষ্টমীর দিন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।

সারাদেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে অবস্থান নিয়েছে র‌্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

দেবী দুর্গা প্রকৃতিতে সুধাভাণ্ডার খাদ্যশস্য হয়ে ক্ষুধারূপ দুঃখ দূর করেন। ফসল দেখে কিষাণ-কিষাণীর আনন্দ। ফসলরূপে উমাই ঘরে আসছে। উমা আনন্দের কারণ। নবশস্য হয়ে দুর্গার আগমন।

এছাড়া দুর্গাপূজা একাত্ম, প্রতীতি, শান্তি ও সৌহার্দ্যরই প্রতীক। সমাজে বসবাসকারী মানুষ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সম্প্রীতির সম্পর্ক স্বাভাবিক। তাই অন্তরের যে সঙ্কীর্ণতা, যা সংঘাতের জন্ম দেয়, সর্বজনীন দুর্গোৎসব সে সঙ্কীর্ণতাকে দূর করে সকলকে উদার করে তুলবে এটাই প্রত্যাশা।