আজ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন logo

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৫, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

কথিত বড় ভাইয়ের নির্দেশে বিদেশী হত্যা : ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকাঃ ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, কথিত বড় ভাইয়ের নির্দেশে বিদেশী নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাভেল্লা সিজারই হত্যাকারীদের টার্গেট ছিল না। তাদের টার্গেট ছিল সাদা চামড়ার যেকোন বিদেশী নাগরিক।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে তাভেল্লা সিজার হত্যায় জড়িত তিন ‘হত্যাকারীসহ’ চারজনকে আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মুনিরুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয় তাভেল্লা হত্যার মিশনে অংশ নেয়া তিনজনসহ চারজনকে আটক করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা সিসি টিভির মাধ্যমে খুনিদের সনাক্ত করি। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যার মিশনে অংশ নেয়াদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার রাতে

তাদের গ্রেফতার করি। গ্রেফতাররা হলেন- হত্যার মিশনে অংশগ্রহণকারী মিনহাজুল আবেদীন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল, রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কী রাসেল ও তামজিদ রুবেল ওরফে শুটার রুবেল।
তিনি বলেন, হত্যায় অংশ নেয়া এই তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল মালিক শাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, কথিত বড় ভাইয়ে নির্দেশে তারা ভাড়াটে খুনি হিসেবে এ হত্যার মিশনে অংশ নেয়। তাভেল্লা সিজার তাদের টার্গেট ছিল না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাদা চামড়ার যে কোন বিদেশী নাগরিক।

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, গ্রেফতারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সেই বড় ভাইকে আমরা সনাক্তের চেষ্টা করছি। ওই বড় ভাই কে? তার পেছনে কোন শক্তি, কারা আছে; এ হত্যার উদ্দেশ্য কী- আমরা জানার জন্য অনুসন্ধান করছি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা খুব দ্রুত এ হত্যার উদ্দেশ্য বের করতে পারবো। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যা ছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা, আন্তর্জাতিকভাবে সরকারকে চাপে ফেলা। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই বিদেশী হত্যাকান্ড ছিল পরিকল্পিত।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে এবং চলতি বছরের প্রথম তিন মাস দেশে কারা সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে। বিদেশী হত্যার সঙ্গে ওই সন্ত্রাসের যোগসূত্র আছে কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আটকদের আরো ব্যাপক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তোলে রিমান্ডে আনা হবে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশী নাগরিক হত্যার মূল মোটিভ উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করেন তিনি।

দুই বিদেশী হত্যায় আইএসের দায় স্বীকার করে দেয়া বিবৃতি মিথ্যা বলেও দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইএস বা এ জাতীয় জঙ্গি তৎপরতা নেই।

তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটকের খবর গত কয়েকদিন গণমসাধ্যমে এলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।

এদিকে শুটার রুবেলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত সাতদিন ধরে রুবেল নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে রোববার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানাল ডিবি পুলিশ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে দুবৃর্ত্তদের গুলিতে নিহত হন ইতালিয়ান নাগরিক ও নেদারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিওবিডির কর্মকর্তা তাভেল্লা সিজার।