আজ শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন logo

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৫, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

‘২৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ী’

নিউজ ডেস্ক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকাঃ সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ২৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ী রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ সব অর্থ আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’
 
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা চেম্বার (ডিসিসিআই) প্রকাশিত ট্যাক্স গাইডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
 
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীও নিজের অসন্তোষের কথা বলেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এনবিআরে কোন্দলের কারণে এমনটি হয়তো হয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআরে কোনো বিরোধ কিংবা কোন্দল নেই।’
 
জানা গেছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং গ্যাস বিতরণকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআরের পাওনা ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বিপিসির কাছে ২ হাজার ৬২১ কোটি টাকা পাওনার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেছে এনবিআর। আর চারটি গ্যাস কোম্পানির কাছে এনবিআরের পাওনা প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা (সুদ সহ)।
 
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অতীতে প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হতো। কিন্তু এবার প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়েছে।’
 
অন্য দিকে, আমদানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছি। কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো ভ্যাট পরিশোধ করেনি। তবে রাজস্ব নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকেই যাচ্ছি। এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ সময় কর কিংবা ভ্যাট অব্যাহতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছি। তবে যে সব জায়গা অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য সেখানে মনযোগ দেব। বাজেটে এ সব বিষয় বিবেচনায় আনা হবে।
 
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আয়কর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ এ ট্যাক্স গাইড প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা তাদের হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে তা সমাধানের দাবি জানান। ডিসিসিআইর পরিচালক ও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ‘ভ্যাটের কর্মকর্তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মালপত্র জব্দ করেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেন। বিগত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট দেয়ার দাবি করেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিগত বছরে কেউ ১ লাখ টাকা ভ্যাট দিলে পরের বছর তার কাছে ১ লাখ ১০ হাজার ভ্যাট দাবি করেন। না দিলে মামলা করেন। সব সময় তো সবার ব্যবসা সমান যাবে না। তিনি বলেন, ভ্যাট দিতে রাজি আছি। কিন্তু হয়রানি যাতে না হই। শিল্প স্থাপনে হয়রানি হচ্ছে। ৪ হাজার টাকার ট্রেড লাইসেন্স ফি এখন ২৩ হাজার টাকা হয়ে গেছে। অন্য দিকে, নতুন করে আমাদের ওপর ভ্যাট বসানো হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।
 
এ সময় ব্যবসায়ীরা আয়কর মেলার মতো ভ্যাট নিয়েও আলাদা মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে আলোচনা করে তাদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা ও ডিসিসিআইর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।