আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৫, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

মুক্তিপন আদায়ে ফিল্মি ষ্টাইলে নির্যাতন

এসবি মিলন

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ভোলাঃ ভোলার লালমোহনে সুজন (২২) নামের ভাড়ায় চালিত এক হোন্ডা চালককে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়ের জন্য ফিল্মি স্টাইলে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দফায় দফায় চালানো এই নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পরা সুজন ঘোংরানী শুরু করলে সেই ঘোংরানীর শব্দ মোবাইলে শোনানো হয় এলাকার এক গডফাদারকে।  নির্যাতনের শব্দ শুনিয়ে গডফাদারকে বলা হয়, ‘বস শালায় তো টাকা দিবে না’। এখন কী করুম।

গত বুধবার রাতে উপজেলার রায়চাদ এলাকার হারুন দফাদারের নির্জন বাগান বাড়িতে সন্ত্রাসীদের বানানো টর্চার সেলে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিত সুজন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কুন্ডেরহাওলা গ্রামের নদী সিকস্তি সামছল বেপারীর ছেলে।

লালমোহন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজন জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরটেক এলাকার কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা নিরব, পাটারীরহাট থেকে রায়চাদ বাজারে যাওয়ার কথা বলে আমার হোন্ডা ভাড়া করে।

রাত ৮টার দিকে রায়চাদ বাজারে পৌছে সেখান থেকে বশির নামের আরেকজনেক হোন্ডায় উঠায় নিরব। পরে, নিরব নিজে হোন্ডা চালিয়ে রায়চাদ বাজারের উত্তরে কিছুদূর গিয়ে আমাকে তুলে দেয় রায়চাদ এলাকার মাদক বিক্রেতা সন্ত্রাসী জামাল, হান্নান ও বশিরের হাতে।

এই তিন সন্ত্রাসী আমাকে নিয়ে যায় এলাকার হারুন দফাদারের নির্জন বাগান বাড়িতে। সেখানে নিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন করে হান্নান, জামাল ও বশির। নির্যাতনে আমি অসুস্থ হয়ে পরলে ঘোংরানীর শব্দ শোনানো হয় এক গডফাদারকে।

হান্নান মোবাইল ফোনে গডফাদারকে জানায়, ‘বস’ শালায় টাকা দিব না। শালারে বাইন্দা পিটাইতেছি এখন কী করুম। সুজন আরো জানায়, সেখানে আমাকে বলা হয় বাঁচতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। রাত প্রায় ১০টার দিকে মুক্তিপনের টাকার জন্য আমাকে নেয়া হয় আমার শ্বশুর বাড়ি রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে। এসময় শ্বশুর নুরে আলম উপায়ন্তর না পেয়ে গোপনে মোবাইল করে  বিষয়টি এলাকার কামাল মেম্বারকে জানায়। পরে কামাল মেম্বার সন্ত্রাসীদের থেকে আমাকে ছাড়িয়ে রাখে। রাত ২টার দিকে আমাকে লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।

স্থানীয় সুত্র জানায়, হারুন দফাদারের ঐ বাগান বাড়িটিতে সন্ত্রাসীরা টর্চার সেল বানিয়েছে। সেখানে দিনে-রাতে চলে জুয়া ও মাদকের আসর।
লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে এএসআই সুবল বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।