আজ সোমবার, ২৬ Jun ২০১৭, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন logo

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

ওষুধ শিল্পে ২০৩৩ পর্যন্ত মেধাস্বত্ব ছাড় : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকা : স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব ছাড় ১৭ বছর বাড়লো। এর ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পখাত ২০৩৩ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব ছাড় পাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হলেও এ সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ওষুধ শিল্প খাতে মেধাস্বত্বে ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, মহাসচিব আব্দুল মুক্তাদিরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুকারক কোম্পানি দেশের চাহিদার ৯৭ শতাংশ পূরণ করছে। এরমধ্যে  ৩০টির বেশি কোম্পানি বিশ্বের ১০৭টি দেশে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ রপ্তানি করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৯ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার ওষুধ রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে করেছে ৬৯ দশমিক ২৪ মার্কিন ডলার। ফলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়। ফলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৬ নভেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার (ট্রিপস) কাউন্সিল স্বল্পোন্নত সদস্য দেশগুলোর জন্য ১৭ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি পাবে না। এ মেয়াদ বৃদ্ধিতে দেশের ওষুধ শিল্প লাভবান হবে। পাশাপাশি রপ্তানি বাজার বাড়বে। এরই মধ্যে সরকর ওষুধ শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৯৭ শতাংশ ওষুধ তৈরী করছে বাংলাদেশ। এটা কম কথা নয়। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের এমন উত্থানে অনেকের হিংসাত্মক মনোভাব রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন হোক তারা তা চায় না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর ট্রিপসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, এ সুবিধা পাঁচ বছরের বেশি বাড়বে না। কিন্তু সরকারসহ সবার প্রচেষ্টায় নতুন মেয়াদ বাড়েছে। ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশের জন্য ট্রিপসের মেয়াদ এতো বছর বাড়ানো হলো।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এটা ওষুধ শিল্পের জন্য এক যুগান্তকারী সুবিধা। আমরা কল্পনা করতে পারিনি যে এতো সময়  পাব। এলডিসি সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এ সুবিধার প্রয়োজন ছিল। এটা না হলে বর্তমানে বাজারে যে ওষুধ চার থেকে পাঁচ টাকায় কিনতে হয় তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কিনতে হতো। আমাদের দেশের গরিব লোকজনের পক্ষে এটা অসম্ভব হতো।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত ৪৯ দেশের মধ্যে কেবল মাত্র বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদন করতে পারে। তাই ওষুধ শিল্প সম্ভাবনাময়ী খাত। এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানির খাত হিসেবে পরিচিতি পাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, এটা বাংলাদেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সুবিধা আদায়ের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাই চেষ্টা করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পোন্নত দেশের জন্য ট্রিপসের মেয়াদ এতো বছর বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ শিল্প খাতে মেধাস্বত্বে ছাড় পাওয়ার সুবিধা যদি না পাওয়া যেত, তাহলে বাংলাদেশের জনগণকে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করে ওষুধ কিনতে হতো। এটা অনেকের পক্ষে সম্ভব হতো না। বর্তমানে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগির সংখ্যা ১০ লাখ। ফলে ওষুধের দাম বাড়লে এসব রোগিরা কী করতেন। তাই আমরা যে সুবিধা পেয়েছি তা অবশ্যই যুগান্তকারী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০৩৩ সালের পরেও ওষুধ পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাটেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে ট্রিপস কাউন্সিলের একাধিক সভায় ও দ্বিপাক্ষিক সভায় আলোচনা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সভা করে ট্রিপস চুক্তি বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ সুবিধা পাওয়া গেছে। এটা স্বল্পোন্নত দেশের জন্য দ্বিগুণ অর্জন বলে বিবেচিত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য উপকারে আসবে।