আজ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর ২০১৫, ১২:০৬ অপরাহ্ন

গরুর গাড়ী এখন শুধুই স্মৃতি

চন্দন কুমার আচার্য

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

সিরাজগঞ্জঃ গ্রাম-বাংলার জনপ্রিয় গরুরগাড়ি তাঁত সমৃদ্ধি এলাকায় বেলকুচি উপজেলা সহ সিরাজগঞ্জের গরুরগাড়ী বিলুপ্তির পথে। মাঝে মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় দু-একটি গরুরগাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না।

আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুরগাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। সে কারণে শহরের ছেলেমেয়েরা দূরের কথা, বর্তমানে গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরুরগাড়ির শব্দটির সাথে পরিচিত নয়। আবার অনেক শহুরে শিশু গরুরগাড়ি দেখলে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করে গরুরগাড়ি সম্বন্ধে। যুগ যুগ ধরে গরুরগাড়ি বেলকুচিতে বিভিন্ন হাটবাজারে সুতার বেল বা  এবং কাপড় আনার-নেওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে পরিচিত ছিল।

গরুরগাড়ি হলো দুই চাকাবিশিষ্ট গরু বা বলদে টানা এক প্রকার যান বিশেষ। এ যানে সাধারণত একটি মাত্র অক্ষের সাথে চাকা দুটি যুক্ত থাকে। সামনের দিকে একটি জোয়ালের সাথে দুটি গরু বা বলদ জুতে এ গাড়ি টানা হয়। সাধারণত চালক বসেন গাড়ির সামনের দিকে। আর পিছনে বসেন যাত্রীরা। বিভিন্ন মালপত্র বহন করা হয় গাড়ির পিছন দিকে।

বিভিন্ন কৃষিজাত দ্রব্য, শিল্প কারখানার মালামাল ও বিয়ের পর নববধুকে নিয়ে যাতায়াত কাজে গরুরগাড়ির প্রচলন ছিল ব্যাপক। গ্রামবাংলায় ঐতিহ্যগতভাবে গরুরগাড়ি এক দশক আগেও যাতায়াত ও মালবহনের কাজে অনেক ব্যবহৃত হতো। অনুমান করা হয়, খ্রীস্ট জন্মের ১৭০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল, যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ে। দুই যুগ আগেও গরুর গাড়িতে চড়ে বর-বধূ যেত।

গরুরগাড়ি ছাড়া বিয়ে হতো না। বিয়েবাড়ি বা মাল পরিবহনে গরুরগাড়ি ছিল একমাত্র ভরসা। বর পক্ষের লোকজন বরযাত্রী ও ডুলিবিবিরা বিয়ের জন্যে ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ির ছাউনি (টাপর) সাজিয়ে শশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি আসা-যাওয়া করত। রাস্তাঘাটে গরুরগাড়ি থেকে পটকাও ফুটাত। যে সব পরিবারের গরুরগাড়ি ছিল, তাদের কদরের সীমা ছিল না। কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুরগাড়িতে কখনো জৈব সার তথা গোবরের সার, বিভিন্ন মালামাল বহন ও  কখনো গরুর খাবার ও লাঙল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে।