আজ শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন logo

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৫, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

খিলগাঁওয়ে দু'গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকাঃ মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নবীনবাগ বালুর মাঠ এলাকায় বুধবার রাতে দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম হাফিজ উদ্দিন ওরফে হাফেজ (২৫)।

তিনি শান্তিনগর বাজারে মাছ কাটার কাজ করতেন। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন হাফিজের বন্ধু পলাশ। তার অবস্থাও আশংকাজনক। তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মূল হোতা জাকির হোসেনসহ দুজনকে আটক ও হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

খিলগাঁও থানার এসআই সৈয়দ আলী ঘটনাস্থল থেকে জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে নবীনবাগ বালুর মাঠ এলাকায় রামপুরার সন্ত্রাসী জাকিরের নেতৃত্বে শাহাজাদা ও মুন্নাসহ কয়েকজন হাফিজ ও পলাশ গ্রুপের সদস্যদের ওপর হামলা করে। এ সময় সময় হাফিজ ও পলাশকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা হাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাফিজ মারা গেছেন। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আহত পলাশ জানান, রাত ৮টার দিকে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর ধারালো চাপাতি দিয়ে হামলা করে। এতে তিনি ও হাফিজসহ কয়েকজন আহত হন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা চালানো হয়। হাফিজের বাবা রিকশাচালক বাবুল সর্দার। তারা রামপুরার মৌলভিরটেক থাকেন। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।

উদ্ধার করেছে রক্তমাখা ছুরি। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্ত ও অন্যান্য বস্তু আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছে ক্রাইম সিন ইউনিট। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাফিজের বাবা বাবুল সর্দার জানান, গাঁজা বিক্রির মামলায় তার ছেলে সাজা খেটে ২৯ অক্টোবর ছাড়া পায়।

এলাকায় এসেই পলাশের সঙ্গে আবার পুরনো ব্যবসা শুরু করে। এ নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী জাকির, শাহাজাদাসহ অন্যরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। মাদক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বুধবার রাতে হাফিজ ও পলাশকে ছুরিকাঘাত করে তারা। হাফিজের মা-বাবা রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে হাফিজের মা বলেন, তারে অনেক নিষেধ করছিলাম, এগুলান ছাইড়া দে কিন্তু পোলায় কথা শুনল না। শেষে তারে প্রাণ দিতে হইল।