আজ সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন logo

বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৫, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

আসামী ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ

চন্দন কুমার আচার্য

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াতকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে এমন অভিযোগে মাওলানা আলী শাহ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধরতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এসময় টাকা দাবী করার অভিযোগে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় জনতা ডাকাত আখ্যায়িত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে।

মাওঃ আলী শাহ আলীর স্ত্রী চামেলী পারভীন ও মেয়ে শাহনাজ খাতুন জানানসহ এলাকাবাসী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আলহাজের নেতৃত্বে সাদা পোশাকধারী পুলিশের ৬জনের একটি দল তিনটি মটর সাইকেল নিয়ে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী মাওলানা আলী শাহ এর বাড়ীতে অভিযান চালায়।

এ সময় অসুস্থ মাওলানা আলী শাহের স্ত্রী চামেলী পারভীন ঘরের দরজা না খুলে জানালা দিয়ে তার স্বামীর রাজনীতি করে না এবং তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই বলে পুলিশকে জানায়।

কথা বলার এক পর্যায়ে উপ-পরিদর্শক আলহাজ পাঁচ লাখ টাকা দাবী করে নচেত তার স্বামীকে গুলি করা হবে হুমকি দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার এবং ঘরের দরজা না খোলায় পুলিশ সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ভেঙ্গে মাওলানা আলী শাহকে মারপিট করে। এসময় মাওঃ শাহ আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্যদরা চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে। পরে গ্রামবাসী ছুটে এসে পুলিশদের ডাকাত আখ্যায়িত করে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে রাত একটার দিকে পুনরায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যসহ ওই বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাওঃ আলী শাহকে বাড়ীতে না পেয়ে বাড়ীর তাঁত ফ্যাক্টরীর ১৪টি তাঁতের শাড়ী-সুতা অনুমানিক ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও ঘরের ভিতর আলমারীতে রাখা নগদ  সাত লাখ টাকা ও সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে বলেও মাওঃ শাহ আলী-এর স্ত্রী চামেলী পারভীন ও মেয়ে শাহনাজ পারভীন জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই শাহ আলী চিকিৎসার জন্য বাড়ী থেকে চলে যায়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাত্রি পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলেও মেয়ে শাহনাজ পারভীন জানান।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া থানার উপপরিদর্শক আলহাজ জানান, আসামী ধরতে গেলে প্রথমে তারা বাধা দেয়। পরে দরজা খুললে আমরা ভিতরে প্রবেশ করি। ঢোকার সময় দরজার কব্জা লেগে মাথা কেটে যায়। এখানে জোরপুর্বকদরজা ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেনি বা কোন মারামারিও হয়নি। আসামী অসুস্থ হওয়ায় তাকে রেখে আমরা চলে আসি।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কৌশিক আহমেদ টাকা দাবী-মারপিট ও লুটপাট-ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকারে করে জানান, উপ-পরিদর্শক আলহাজ্বের নেতৃত্বে ৬জন পুলিশ সদস্য ওই বাড়ীতে গিয়ে গেলে মাওলানা শাহ আলী অসুস্থ হয়ে পড়ে দাপাদাপি শুরু করলে গ্রামবাসী জড়ো হয়।

পরে পুলিশ ফিরে আসে।  প্রথমে পুলিশকে লাঞ্চিত করার কথা শুনলেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। শাহ আলীর বিরুদ্ধে কি ধরনের মামলা রয়েছে এ বিষয়ে বলেন, নির্দিষ্ট মামলা নেই তবে মাওলানা শাহ আলী জামায়াতকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।