আজ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:১৩ অপরাহ্ন logo

রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

চিত্রগ্রাহকদের সঠিক মূল্যায়ণ করা হোক - আলাউল বাকি

একটি নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের সফলতার জন্য নিভৃতচারী কিছু মানুষের ভূমিকা থাকে অপরসীম। তেমনি  একজন মানুষ চিত্রগ্রাহক। তিনি  একে একে   ক্যামেরার ধারণ করেন নানা দৃশ্য। যা আমাদের  উপহার দেয় একটি গল্প। আলাউল বাকি একজন জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক।  ক্যামেরায় চিত্রধারণ করেছেন অসংখ্য বিজ্ঞাপন , নাটক, টেলিফিল্ম ও চলচ্চিত্র। তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন- সামসুল হুদা

শুরুটা কি ভাবে?

পড়াশোনা শেষ করে চাকরির আশায় ভগ্নিপতির বাসায় উঠি। আমি ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাদে ভগ্নিপতি আমার জন্য টেলিভিশন উৎপাদন কারখানায় চাকরি ঠিক করেন। কিন্তু চাকরিটা আমার ভালো না লাগায় ভগ্নিপতি আমাকে বিটিভিতে চাকরি করার প্রস্তাব দেন। বিটিভির কথা শুনে আমি সাথে সাথে রাজি হয়ে যাই। বিটিভিতে গিয়ে তৎকালিন অনুষ্ঠান অধ্যক্ষ ম. হামিদ স্যারের সাথে পরিচয় হয়। তখন বিটিভিতে কোন চাকিরির পোস্ট খালি না থাকায় ম. হামিদ স্যার তার পরিচিত একটি মিডিয়া হাউজে চাকরি করার প্রস্তাব দেন। আমি রাজি হয়ে যাই এবং আমি চাকরিতে যোগ দেই। শুরু হয় আমার মিডিয়ার পথ চলা। কিন্তু কখন কল্পনা করিনি যে, এটাই আমার পেশা হয়ে যাবে।

চিত্রগ্রাহক হিসেবে পথচলা কত সাল থেকে?

চিত্রগ্রাহক হিসেবে পথচলা ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে ।

আপনার চিত্রগ্রহণে প্রথম নাটক কি ছিল?

প্রয়াত পরিচালক আখতারুজ্জামানের“তৃষ্ণা” নাটকটি আমার করা প্রথম কাজ ছিল।

এই পর্যন্ত আপনার চিত্রগ্রহণে কাজের সংখ্যা কত?

আমার কাজের সংখ্যা তো অনেক তার মধ্যে খণ্ড নাটক প্রায় ২০০, টেলিফ্লিম প্রায় ২৬, ধারাবাহিক প্রায় ৪৯, বিজ্ঞাপন প্রায় ৯, চলচ্চিত্র ২  এবং অগণিত প্রামান্য চিত্র রয়েছে।

 

আপনার কাছে নিজের সেরা কাজ কোনটি?

আমার কাছে আমার করা সবকাজই সেরা মনে হয়। কারন আমার কাজের সংখ্যা অনেক। তাই একটার সাথে অন্যটার তুলনা করা বেশ কঠিন।

কোন পরিচালকের সাথে বেশি কাজ করা হয়েছে?

আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যেবান। আমার শুরুটা হয়েছিল অনেক ভাল ভাল মানুষের সাথে। আমি প্রায়ত আখতারুজ্জামান, ম. হামিদ, ফ্লাগুনী হামিদ, রিয়াজউদ্দিন, আলাউদ্দিন আলী, সোহেল আরবাম, আমজাদ হোসেন, অরুন চৌধুরী, চয়নিকা চৌধুরী, নরেশ ভূইয়া, আরিফ খান, কায়সার আহমেদ, ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর, শতীর্থ রহমান রুবেল, মনজুরুল আলম, অনন্ত হীরা, ফুয়াদ চৌধুরী, আল-হাজেন, জিন্নাত হাকীম, তৌকির আহমেদ, রুমানা রশিদ ঈশিতাও শিবলী কাইয়ুমসহ আরো অনেকের সাথে কাজ করেছি।

ক্যামেরার পিছনে কাজ করতে গিয়ে কখনও ক্যামেরার সামনে কাজ করার ইচ্ছে হয়েছিল?

না, এই ইচ্ছে হয়নি। যেহেতু আমি ক্যামেরার পিছনের মানুষ, সেহেতু আমি সবসময় চেয়েছি ক্যামেরার সামনের মানুষগুলোকে তুলে ধরতে। আমি তাদেরকে তৈরি করে ভালো অবস্থানে দাড় করানোর চেষ্টা করি। প্রতিনিয়ত আমার ক্যামেরার সামনে একটা নতুন শিল্পী,একটা অভিনেতা-অভিনেত্রী, একটা শিশু শিল্পীর প্রদার্পন হচ্ছে। এটাই আমার প্রাপ্য। আমার ক্যামেরার সামনে কাজ করে এখন অনেকেই প্রতিষ্ঠিত নামকরা মডেল, শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী হয়ে গেছে।

আপনার চিত্র-গ্রাহনে চলচ্চিত্র ‘পরবাসিনী’ নিয়ে কিছু বলুন?

পরবাসিনী আমার চিত্রগ্রাহনে প্রথম কাজ। এই চলচ্চিত্রটি চারটি দেশের চিত্র-গ্রাহককে নিয়ে কাজ করেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এই ছবির পরিচালক স্বপন আহমেদ আমাকে নিয়েছেন। আগামী ২৫ শে ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে।

চলচ্চিত্রে আপনার কাজের সংখ্যা কম কেন?

বাজেট স্বল্পতার কারণে চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়নি। কারন চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রটা অনেক বড়। এখানে কম বাজেট থাকলে কাজ করার কথা আমি ভাবতে পারিনা। চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। তখন বাজেট স্বল্পতার কারনে ফিরিয়ে দিলেও এখন নিয়মিত চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে। কারন গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশে ভালো বাজেটের ছবি হচ্ছে।

শুটিং ইউনিটে ঘটে যাওয়া মজার কোন ঘটনা আছে কি?

শুটিং ইউনিটে তো অনেক মজার ঘটনাই ঘটে থাকে। তার মধ্যে আমার মনে পড়ে প্রায়ত শেখ রিয়াজউদ্দিনের পরিচালনায় ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় বিটিভির জন্য “আমাদের ছোট নদীর” কাজ করছিলাম। কাজের ফাঁকে ইমদাদুল হক মিলন ভাই এসে আমাকে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন তুমিতো অনেক সুন্দর, লম্বায়ও বেশ। তুমি ক্যামেরার পিছনে কাজ না করে ক্যামেরার সামনে কাজ করলে ভালো করবে। তখন আমি মিলন ভাইকে বললাম, সবাই যদি অভিনেতা হয় তাহলে, চিত্রগ্রাহক হবে কে?

ভবিষৎ পরিকল্পনা কি?

আমার ভবিষৎ পরিকল্পনা ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ক্যামেরা প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান নির্মান করবো। সেখানে বিনা পয়সায় ক্যামেরা প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমি চাই ক্যামেরার সঠিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশকে বিশ্বে পরিচিতি এনে দিতে।

আমাদের দেশে চিত্র-গ্রাহকের মূল্যায়ন কেমন?

আমাদের দেশে চিত্রগ্রাহকের মূল্যায়নের বড় অভাব। আমাদের দেশের চিত্র-গ্রাহকরা ভালো ভালো কাজ করা সত্ত্বেও সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। আমাদের দিয়ে কোন কাজ করালে তার বাজেট থাকে খুব সীমিত, অথচ সেই একই কাজ অন্য দেশের চিত্র-গ্রাহককে দিয়ে করালে বাজেট থাকে দ্বিগুন। এমন কি অনেক সুযোগ সুবিধা থাকে। আমরা চাই আমাদের চিত্র-গ্রাহকদের সঠিক মূল্যায়ন হোক।

আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন?

বাবা-মা, ভাই-বোন, আমার একমেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে আমার সুখের পরিবার। বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার স্ত্রী,আমার প্রতি অনেক যতœবান। আমি যত ভোরে বাসা থেকে বাসা থেকে বের হই না কেন, আমাকে না খেয়ে যেতে দিবে না। কাজেই আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক সুখেই আছি।