আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫, ১২:৩২ অপরাহ্ন

এসএসসি’র ফরম পূরনে ৭৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

ঢাকাঃ রাজধানী ডেমরা কোনপাড়ার মান্নান হাই স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের নাম করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। সরকার নিধারিত ফি আদায় না করে তাদের ইচ্ছে অনুযায়ি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৫০০ টাকা করে আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটির এ দুই কর্মকর্তা।

অথচ শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি হচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের ১৪৫৫ এবং অনিয়মিতদের ১৫৫৫ টাকা। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার নিয়মিতদের ১৩৫৫ এবং অনিয়মিতদের ১৪৫৫ টাকা। কিন্তু এসবের কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেনা প্রতিষ্ঠানটি। মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সকল বিভাগের পরীক্ষাথীদের কাছ থেকে ৭৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আর এ অর্থ আদায়ে কোন প্রকার মানি রিসিট দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, মান্নান হাই স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৭৯ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়। অকৃতকার্য ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য, ইচ্ছা করেই তাদের ফেল করানো হয়েছে।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ফরম পূরনের ফ্রি ৭৫০০ টাকার বাহিরে স্কুলের অধ্যক্ষ ও চেয়ারম্যান প্রতিটি শিক্ষাথীর কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই সঙ্গে একই স্কুলের কলেজ শাখায় ভর্তি হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ (বন্ডসই) হয়ে আসন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন তারাও।

নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, নির্বাচনী পরীক্ষার দায়িত্ব নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর থাকায়, এটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অলিখিত নিয়মের বেড়াজালে মুখ খুলতে পারছেন না তারা।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকার নিধারিত ফ্রি নেওয়া হচ্ছে। সরকার নিধারিত ফ্রি কত জানতে চাইলে তিন কোন উত্তর দেননি।

অভিবাবক ও শিক্ষাথীদের অভিযোগ ৭৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিন জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্যান্তেই সব কিছু নিধারিত হয়। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। একই সাথে প্রতিবেদককে চেয়রম্যানের সাথে যোগযোগ করা কথা বলে ফোনটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির চেয়াম্যান অরুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব কিছু অশ্বিকার করেন। এ বিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষর সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোনটি কেটে দেন। পরে একাধিক বার ফোন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

সামগ্রীক অভিযোগ যাচাইয়ে ভোরের পাতার এ প্রতিনিধি স্কুলে গেলে স্কুলের অধ্যক্ষ ব্যস্ততার অযুহাত দেখিয়ে সাক্ষাৎ দেননি। অবশ্য পরক্ষণে জানতে পারলাম তিনি আড্ডায় মোসগুল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজ্ঞান বিভাগের এক পরীক্ষার্থী জানান, ‘নির্বাচনী পরীক্ষায় আমি এ পেয়েছি। আমাকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। সরকার বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তাহলে কেনো আমাকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, ‘সরকারি নিয়ম দেখিয়ে বাড়াবাড়ি করতে গেলে পরীক্ষা দিতে পারবো না। আবার কউকে জানালেও একই অবস্থা তৈরি হতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই ৭৫০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষায় কোনোভাবেই ভালো নম্বর পাওয়া যাবে না। কারণ ব্যবহারিক নম্বর স্কুলের শিক্ষদের হাতে।

নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, ‘এ স্কুলের সবকিছুই তারা (অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি)। সরকার এখানে কিছুই না। সরকারি নিয়ম কাগজ-পত্রেই আছে। এখানে কোনো সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকরা কিছুই বলতে পারে না।’ এরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলটিকে আজ ধ্বংসের দার প্রান্তে নিয়ে এসেছে। এই এলাকায় দেশ সেরা প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজে মাত্র ১৫০০ টাকায় ফরম পূরণ করেছে সেখেনে  এ স্কুল ৭৫০০ টাকা কি করে আদায় করে।

তিনি আরো বলেন, এক সময়ে এ স্কুলটিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করলেও এখন আর আগের মতো ছাত্র ছাত্রী নেই। এর একটাই কারণ। এখনে নিয়ম-নীতি বলতে কিছু নেই। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান শিক্ষাথীদের জিন্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়। আর এ অভিযোগ সবার জানা। তাই এ স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাড়তি ফ্রি আদায়ে কোন সুযোগ নেই। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে আমরা খতিয়ে দেখবো। আর সত্যতা ফেলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।