আজ রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন logo

বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৫, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান সম্পন্ন

উওম কুমার হাওলাদার

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

পটুয়াখালীঃ র্নিঘুম রাত কাটানোর পর বঙ্গোসাগরের লোনা জলে পুর্নিমা তিথীতে সূর্য ওঠার সাথে সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো নর-নারীরা গঙ্গাস্নান শেষ করেছে।

বুধবার সকালে কুয়াকাটার সৈকতে স্নানের আগমূহুর্তে অনেক মানতকারিরা মাথার চুল ন্যাড়া করা সহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ডদান করেন। পূন্যের আশায় হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর ইত্যাদি সমুদ্র বুকে অর্পন করে।

দিনভর পুর্ণিমার মধ্যে পুরো সৈকত জুড়ে মহিলাদের উলুর ধ্বনি ও মন্ত্র পাঠ করে আগত পূণ্যার্থীরা গঙ্গাস্নান করেন। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গঙ্গাস্নান উপলক্ষে সৈকতে মেলা বসেছে।

এ উৎসবকে কেন্দ্র করে জাতি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে কুয়াকাটার সৈকতে হাজার হাজার মানুষের মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। গঙ্গাস্নান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর টহল অব্যাহত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কলাপাড়া শ্রীশ্রী মদন মোহন সেবাশ্রমের পুরহিত পরিমল চন্দ্র দাস জানান, প্রতি বছর পূর্নিমা তিথীতে এ রাস লীলা  উৎসব ও মেলা চলে আসছে । দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, হিংসা, হানাহানী, দেখে এবং দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ নাম ধারন করে পৃথিবীতে অবর্তীন হয়। ওই যুগে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ নিস্কাম প্রেমের নিদর্শন রেখে যান এবং তিনি যে সর্বভূতে বিরাজ করেন তারই স্বাক্ষী রেখেছেন পূর্নিমা রাতে এ লীলার মাধ্যমে। সেই লীলা অনুসরনে কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান শেষে কলাপাড়ার মদন মোহন সেবাশ্রম আঙ্গিনায় রাস মেলা চলে আসছে।

নারায়নগঞ্জ থেকে আসা স্নান শেষে ভিজে পুরে সৈকতে দাঁড়িয়ে গামছা দিয়ে শরীর মুছ ছিলেন পঞ্চান্ন বছরের উর্ধ্ব লক্ষন রায় এ সময় তিনি জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান করার। এখানে এসে র্নিঘুম রাত কাটিয়ে ভরা পূর্নিমায় সাগরের জলে পূণ্যস্নান শেষ করেছি।

একই এলাকার সেজুতি রানী তার ছেলের মাথার চুল ন্যাড়া কারার মানত ছিলো। কুয়াকাটায় এসে বুধবার সকালে মাথার চুল ন্যাড়া করা শেষে গঙ্গাস্নান করেছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে সবচেয়ে সমস্যা হয়েছে খাবার-দাবারে। ব্যবসায়িরা গলাকাটা দাম রাখছে। তাছাড়া খাবারের মানও ছিল অত্যন্ত খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে ওই খাবার খেতে হয়েছে।

খুলনা থেকে আসা পূণ্যার্থী মনিকা বালা জানান, এখানে মহিলাদের সমস্যায় পরতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আলাদা কোন ব্যবস্থা না থাকায় স্নান শেষে কাপড় পাল্টাতে ভীষন বিপাকে পড়তে হয়েছে।

কুয়াকাটা গঙ্গাস্নান ও রাস উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিপুল হাওলাদার জানায়, অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা সফল ভাবে অনুষ্ঠান পালন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার মীর ফসিউর রহমান জানান, জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ট্যুরিষ্ট পুলিশের সমন্বয়ে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। কোন অপ্রীতকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ বছর কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।