আজ রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলা মামলায় আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি,

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- আনোয়ার (৪৮) ও জুয়েল (২৫)। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল দুইজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ হামলার  ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ওই মসজিদের ক্যাশিয়ার সোনামিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জের হরিপুরে শিয়াদের একটি মসজিদে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন হরিপুর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চাককানু গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মসজিদের ইমাম শাহিনুর ইসলাম (৩৫), আলাদিপুর গ্রামের খয়ের মাহমুদের ছেলে আবু তাহের (৭০) ও চাককানু গ্রামের কুদু প্রামাণিকের ছেলে আফতাব আলী (৪২)। এদের মধ্যে শাহিনুর ও তাহেরকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এবং আফতাবকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়ায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, অন্তত ২০ জন মুসল্লি মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় ৩-৪ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এতে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন মাথায়, ইমাম শাহিনুর ইসলাম কোমরে এবং মুসল্লি তাহের ও আফতাব পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
গুলিবিদ্ধ চারজনকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহিনুর ইসলাম ও আবু তাহেরকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী কারা সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমাম শাহিনুর ইসলাম জানান, মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় তিনজন দুর্বৃত্ত মসজিদে ঢুকে গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনি ও মুয়াজ্জিনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় অন্যরা শুয়ে পড়ায় রক্ষা পান। হামলাকারীদের বয়স ২০-২২ বছর বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, কারা ও কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। মসজিদ থেকে আট রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, থানা সদর থেকে বেশ কিছু দূরে দুর্গম গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। সেখানে এ ধরনের হামলার পেছনে নিশ্চয় বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠে নেমেছেন। প্রয়োজনে অস্ত্রধারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালানো হবে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আহসান হাবীব জানান, মাগরিবের নামাজের পর দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
মহররমে ঢাকায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলার এক মাসের মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জে এই হামলা হল। ওই হামলায় দু’জন নিহত হয়েছিলেন।