আজ শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৪১ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

ডিমলায় পল্লীশ্রী রি-কল প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম

ডিমলা প্রতিনিধি

জনতার নিউজ২৪ ডটকম

নীলফামারী : দিন্জাপুর বালুবাড়ীর বে-সরকারী সংস্থা পল্লীশ্রীর নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা শাখায় উক্ত সংস্থার রি-কল প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির খবর পাওয়া গছে।

জানা যায়, বিগত প্রায় দেড় বছর পূর্বে উপজেলার পূর্ব চাতনাই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পল্লীশ্রীর আওতাধীন তিতাস জনসংগঠন, খানপাড়া জুই সংগঠন, গোলাপ দল, মাষ্টার পাড়া জন সংগঠন, শিউলি জন সংগঠনসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সংগঠনের সদস্যদের মাঝে এ প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। এসব উন্নয়নের চিত্র দেখতে গত বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর উক্ত ইউনিয়নে সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে ভিন্ন চিত্র। কথা হয় তিতাস সংগঠনের সভানেত্রী ছামিরন বেগমের সাথে তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে ১৩২ জন সদস্য নিয়ে এ সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে গ্রামে উন্নয়ন মূলক সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত আছি। বাল্যবিবাহ রোধসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকি আমরা সংগঠনের মাধ্যমে। তিনি জানায়, সম্প্রতি আমার সংগঠনে একটি ট্যাবলেট কম্পিউটার পেয়েছি।

দেখতে চাইলে তিনি ঘর থেকে সাজানো অবস্থায় এনে প্রতিবেদককে দেখানোর সময় কিভাবে এটা চালাবেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন ট্রেনিং পাইনি। কিভাবে চালাতে হয় আমি জানি না। তবে মমতাজ বেগম নামের এক সদস্য দিনাজপুরে ২দিনের প্রশিক্ষন দিয়ে এসেছে, ওই হয়ত চালাতে পারবে। কিন্তু ট্যাবটি আপনার বাসায় কেন? তিনি বলেন এখানে চার্জের কোন ব্যবস্থা নেই। ঐ একজন ছাড়া কেহই চালাতে শিখেনি। তাই আমার কাছেই জমা আছে। এরপর খোঁজ মেলে এ প্রকল্পের অন্যসব কাজের। যেখানে উন্নয়নের নামে শুধু অনিয়ম আর দূর্নীতি। ছুটে যাই খানপাড়ার জুই সংগঠনে,দেখা মিলে সংগঠনের সদস্য সূর্য়্যবানু ও তার স্বামী তারাবালীর পূত্র সবুর আলীর সাথে,তাদের বাড়ীতে বসেই কথা হলে সবুর আলী জানায় প্রায় ৮/৯ মাস পূর্বে আমাকে গরু রাখার জন্য একটি ঘর দেবার কথা বলে পল্লীশ্রী আমাকে দিয়েছে ঘরের ৬টি ঘরের খুটি,৬ ফুট উচ্চতার ১২ পিচ ঢেউটিন,গরু খাবারের পাত্র ২টি চারি ও ৪টি রিং। তিনি বলেন,আমার ঘরের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অনেক চেষ্টা করেও জানতে পারিনি। অথচ ঘরের জন্য এই সামান্য দিয়েই আমার ও আমার স্ত্রীর কাছে কত জায়গায় যে স্বাক্ষর নিয়েছে তা বলাই মুশকিল।

তাছাড়া ঘরের সামান্য জায়গায় মাঝিয়া ঢালাই করে দিয়েছে ঢালাইয়ে চলে না এমন পাথর-বালু দিয়ে। তাদের সরবরাহকৃত ঢেউটিন ও পাথর নিম্নমানের হওয়ায় আমি কাজে লাগাইনি। এমন কি ঘরের এসব কাজ যখন করা হয় তখন পল্লীশ্রীর কেহই ছিলেন না মিস্ত্রিরা কোনমতে দায়সারা কাজ করে চলে গেছেন। একই কথা বলেন গরুর ঘর পাওয়া মোসলেম খার স্ত্রী জমিলা বেগম ও নুর ইসলামের স্ত্রী জহুরা বেগম। এ সময় সংগঠনের সদস্যা ইয়াছমিন বেগম জানায়, আমি প্রায় দেড় বছর পূর্বে একটি গরু ক্রয় করেছি  সে সময়ে আমি ১৬ হাজার টাকা দিয়েছি পল্লীশ্রীকে আর পল্লীশ্রী ১২ হাজার দিয়ে মোট ২৮ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করে দেবার কথা থাকলেও আমাকে দিয়েছে ২২ হাজার টাকা দিয়ে। এ গরুর বর্তমান মূল্য ২৪/২৫ হাজার টাকা। তাহলে এক বছর গরু লালন পালন করে কি লাভ ? তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন,সম্প্রতি সংগঠনের সদস্যদের মাঝে এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮০ টি ঘর দিবে তাই সদস্যদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা প্রত্যেক সদস্যকে জমা দিতে হবে পল্লীশ্রীতে।

আমার মাত্র একদিন টাকা দিতে দেরী হওয়ায় আমার নামটা কেটে পল্লীশ্রীর ফেরদৌসী আপা বাদ দিয়েছে ,পরে আমার কাছে আর টাকা নেয়নি। ছাতনাই গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও পল্লী চিকিৎসক ডা: মিজানুর রহমান বলেন,প্রায় ৫/৬ মাস পূর্বে প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাংগা ও দরিদ্র পরিবারে বাস্তুভিটা উচু করনের জন্য নারী শ্রমিকদের দিয়ে প্রতিদিন ২৫০ টাকা মুজুরী নির্ধারণ করে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন দেয়ার কথা থাকলেও পল্লীশ্রীর রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা  মিলে ২৭ দিনের প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিকের মুজুরী না দিয়েই টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেন। এ ঘটনায় নারী শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অসেন্তাষ প্রকাশ করায় স্থানীয় গল্যমান্য ব্যক্তিবর্গে সহযোগীতায় মাত্র ১০/১২ দিনের মুজুরী উদ্ধার করতে পারলেও বাকী টাকা আর নারী শ্রমিকদের ভাগ্যে জুটেনি। রি-কল প্রকল্পের উপজেলা ম্যানেজার পুর্ন কুমার রায় এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ নিয়ে মাঠে খোঁজ খবর নেয়া হবে।