আজ শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন logo

বুধবার, ১১ Jun ২০১৪, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র : মোস্তাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনতার নিউজ২৪ ডটকম
ঢাকা: আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
 
আমলাতন্ত্রকে প্রধান বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমলারা এত বেশি শক্তিশালী যে, তার বৃত্ত ভেদ করে আমরা ভালো কিছু করতে পারি না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নেও সবসময় আমরা পিছিয়ে থাকি।’
 
বুধবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে উন্নয়ন সংস্থা সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযান (সুপ্র) আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক পর্যালোচনায় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
 
তবে জনগণ সচেতন হলে এবং সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এ জটিলতা থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী।
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে যে বাজেট করা হয় তার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়, সে অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন করা হয়।’
 
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর কর আরোপ করবে এর জন্য তাদের ভোট ও মতামত লাগবে। কিন্তু এ প্রচলন আমাদের দেশে নেই। এটি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’
 
আমলা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তাদের কারণেই যথেষ্ট পরিমাণ কর আদায় হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
 
আলী আশরাফ বলেন, ‘এরা যদি ফাঁকিবাজি, চুরিতে সাহায্য না করে তবে বর্তমানের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি কর আদায় করা সম্ভব।’
 
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপ্রর প্রতিনিধিরা বলেন, বাজেটের আকার বাড়লেও সেবা ও কৃষিখাতে বরাদ্দ কমে গেছে। এ দুটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তারা। এছাড়া বাজেটে বিশাল অঙ্কের ব্যয়, ঘাটতি পূরণ ও গুণগত বাস্তবায়নই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মত দেন তারা।
 
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান রাশেদ আল মাহমুদ।
 
তিনি বলেন, ‘বড় অঙ্কের বাজেট হলেও এর বড় অংশ যাবে সুদ পরিশোধে। জনপ্রশাসন খাতের পরই এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যখাতে বাড়েনি। কৃষি খাতে বরাদ্দ ৩ শতাংশ কমানো হয়েছে যা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাধা হয়ে দাড়াবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটে প্রত্যক্ষ কর নির্ভরতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধেই রয়ে গেছে। সেবা খাতে বরাদ্দ কম থাকায় মানুষ ভ্যাট দেবে কিন্তু সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।’