আজ সোমবার, ২৪ Jul ২০১৭, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন logo

শুক্রবার, ১৪ Jul ২০১৭, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : ত্রাণমন্ত্রী

নিউজডেস্ক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বন্যায় কোনো মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, কোনো মানুষ যাতে না খেয়ে মারা না যায় সেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

বন্যা মোকাবেলা উপলক্ষে জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত জামালপুর জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখনও বন্যার পানি বাড়ছে। পানি না কমা পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরাতা চালিয়ে যেতে হবে। বন্যার পরে পুনর্বাসনের কাজগুলোও সঠিকভাবে করতে হবে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রকৃত অতিদরিদ্র ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করার নির্দেশ দেন।

তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ সবাইকে সাথে নিয়ে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে বলেছেন। তাই আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে কোনোরকম তালবাহানা, নয়ছয়, দুর্নীতি হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকবে সরকার। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম হীরা, সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ বেবী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহাম্মেদ, জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জামালপুর জেলা শাখার উপ-অধিনায়ক সুজাত আলী ফকির, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রাশিদা ফারুকী প্রমুখ।

সভায় ত্রাণমন্ত্রী জামালপুর জেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য আরও ২০০ মেট্টিক টন চাল, রুটি বানানোর জন্য ৫ লাখ টাকা ও ২০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেন। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল সাবরিন পাওয়াপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জামালপুর জেলার বন্যাদুর্গত এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও ত্রাণ তৎপরতার চিত্র ত্রাণমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর আগে সভার সঞ্চালক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল জামালপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি এবং করণীয় প্রসঙ্গে হালনাগাদ তথ্য জানার জন্য সভায় উপস্থিত কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ অধিকাংশ দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত না থাকায় এবং তাদের প্রতিনিধি যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, এ জেলায় বন্যা দুর্যোগের মুহূর্তে আপনাদের সাহস দেখলে অবাক হতে হয়। তিনি সভাকে জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। আপনাদের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। কোথায় কি পরিমাণ ত্রাণ লাগবে। তাদের পুনর্বাসনের কি হবে- এসব নিয়ে আপনারা সবাই মিলে পরিকল্পনা মাফিক আন্তরিকতার সাথে কাজ করুন। ভবিষ্যতে যাতে এমন আর না হয়।