আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন logo

সোমবার, ২২ মে ২০১৭, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

বনানীতে সোমবার জাগপা সভাপতি প্রধানের দাফন

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)।
রোববার সকালে আসাদগেটে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


দলটির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান যুগান্তরকে জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার আসাদগেটের বাসায় মারা যান শফিউল আলম প্রধান। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। এর আগে একাধিকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

মৃত্যুকালে স্ত্রী রেহানা প্রধান, মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, ছেলে রাশেদ প্রধানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

প্রধানের মৃত্যুর খবর শুনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার বাসায় ছুটে যান।

রোববার দুপুরে নিজ বাসার পাশে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে সেখানে জানাজার পর মরদেহ নেয়া হয় পঞ্চগড়ে।

সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে সোমবার ভোরে প্রধানের মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সর্বশেষ জানাজা শেষে বনানীতে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিককে।

প্রধানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। রোববার এক শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘শফিউল আলম প্রধান ছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক। মনে-প্রাণে একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ ছিলেন। দেশের এই দুর্দিনে তার মতো একজন প্রাজ্ঞ ও আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’

মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবার, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান খালেদা জিয়া।

রোববার বাদ জোহর আসাদগেটের নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, ২০ দলের মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জেবেল রহমান গানি, গোলাম মোস্তফা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, আবদুল হালিম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ।

বিভিন্ন দল ও সংগঠনের শোক

শফিউল আলম প্রধানের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজনৈতিক দল ও নেতারা। রোববার পৃথক বিবৃতিতে তারা এ শোক জানান।

তাদের মধ্যে আছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টির (জাফর) টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও মোস্তাফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান ও মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা ও মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জমির প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

শফিউল আলম প্রধান ১৯৫০ সালে পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তমিজউদ্দিন প্রধান পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া করা শফিউল আলম প্রধান ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে সাত ছাত্রকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই হত্যাকাণ্ডে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচারে শফিউল আলম প্রধানের কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে মুক্তি পান তিনি। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি গঠন করে দলটির সভাপতি হন।