আজ রবিবার, ২৫ Jun ২০১৭, ১১:৩১ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৬ মে ২০১৭, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিক থেকে এখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে শামিল হন তাঁরা। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার কথা আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজু ভাস্কর্যের সামনের এই বিক্ষোভ সমাবেশে আছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, উদীচী, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ছাত্র ঐক্য ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত ভাস্কর্য সরানোর কাজ হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্যটি সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাস্কর্য সরানোর খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে ছুটে আসেন বিক্ষুব্ধরা। দুইটার দিকে বেশ কিছু তরুণ সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের একটি মিছিল আসে। রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধরা আদালতের ফটক ধরে ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ভাস্কর্য সরানোর কাজ বন্ধ থাকে। ভেতর থেকে ফটকের কাছে আসেন কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে সাময়িক উত্তেজনার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ফটকের সামনে ও অন্য একটি অংশ রাস্তার একপাশ বন্ধ করে রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। থেমে থেমে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। স্লোগান ওঠে ‘ন্যায়বিচারের ভাস্কর্য অপসারণ করা যাবে না’, ‘আপস না রাজপথ?—রাজপথ, রাজপথ’, ‘হেফাজতের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মৌলবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও জ্বালিয়ে দাও’ ইত্যাদি।

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

বিক্ষোভের মধ্যেই ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শেষ হয়। সেখান থেকে ক্রেনের সাহায্যে ভাস্কর্যটি একটি ছোট ট্রাকে তোলা হয়। ভাস্কর্যটি অ্যানেক্স ভবনের ভেতরে পানির পাম্পের পাশে নিয়ে রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভোর চারটার দিকে ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর আরও ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার আগে আজকের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরই অংশ হিসেবে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ।

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: আবদুস সালাম

ভাস্কর্যটি সরানোর সময় উপস্থিত ছিলেন এর ভাস্কর মৃণাল হক। তিনি বলেন, এ ভাস্কর্য কোনো গ্রিক দেবীর নয়; বরং এটি বাঙালি মেয়ের ভাস্কর্য। যার হাতে ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। আমাকে চাপ দিয়ে ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে। এখন এটি সরানো হচ্ছে, এরপর নির্দেশ আসবে অপরাজেয় বাংলা ভাঙার। তিনি বলেন, দেশের শান্তি রক্ষার স্বার্থে যত্ন করে ভাস্কর্যটি সরাচ্ছেন। তিনি না থাকলে এটি নয় টুকরা করা হতো। কিন্তু এখন এটি অক্ষত অবস্থায় অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।’