আজ সোমবার, ২৬ Jun ২০১৭, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন logo

শনিবার, ০৩ Jun ২০১৭, ১২:২০ অপরাহ্ন

পাক-ভারত ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস করা বোকামি

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

প্রশ্ন : অবসরোত্তর জীবন কেমন কাটছে?
মিসবাহ-উল-হক : পরিবারের সঙ্গে কাটছে। উপভোগই করছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি ষোলো বছরের ওপর। পরিবার ছেড়ে বাইরে বাইরে ঘুরেছি। এ রকম সময় পরিবারের সঙ্গে কখনও কাটাইনি। তাই ভালো লাগছে।

প্রশ্ন : ক্রিকেট মিস করছেন না? সত্যি করে বলুন।
মিসবাহ : একদম মনের কথা বলছি আপনাকে। এ মুহূর্তে আমি ক্রিকেট মিস করছি না। পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে। আর একটা কথা বলি শুনুন, আমার ক্রিকেট খেলা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। খেলা চালিয়ে যাব।
প্রশ্ন : কোথায় খেলবেন?
মিসবাহ : পাকিস্তান সুপার লীগ টি ২০-তে খেলা চালিয়ে যাব। অন্যান্য দেশর লীগেও খেলতে পারি। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার তাই পুরোপুরি শেষ হয়নি।
প্রশ্ন : এজবাস্টনে ভার-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আপনার পূর্বাভাস কী?
মিসবাহ : আমি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস করতে চাই না। এ ম্যাচ নিয়ে পূর্বাভাস করাটা বোকামি। যে টিমের যে রকমই ফর্ম থাকুক, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এ ম্যাচটা সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে খেলা হয়।
প্রশ্ন : ভারত-পাকিস্তানের অধিনায়করা এই দ্বৈরথের আগে বলেন, এটা আর একটা ম্যাচ, সেটা তাহলে মনের কথা নয়?
মিসবাহ : ওসব একটু-আধটু বলতে হয়। ক্রিকেট খেলাটা তো শুধু ব্যাট, বল আর মাঠের লড়াই নয়। মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মনস্তাত্ত্বিক দিকটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন : পাকিস্তানের কাদের ওপর বেশি ভরসা করছেন?
মিসবাহ : বাবর আজমের ওপর আমার অনেক আস্থা। ক্যাপ্টেনও তরুণ এবং ভালো ক্রিকেটার- সরফরাজ আহম্মেদ। আজহার আলী আছে। শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজের মতো সিনিয়র আছে। আমাদের বোলিং আক্রমণ তারুণ্যনির্ভর। ইংল্যান্ডে ওরা ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রশ্ন : বিরাট কোহলিকে আপনার কেমন লাগে?
মিসবাহ : অসাধারণ! আমি মনে করি, শুধু ক্রিকেট বলে নয়, যেকোনো খেলার হিসেবেই যদি বিচার করি তাহলে বিরাট হচ্ছে অসামান্য এক ক্রীড়া প্রতিভা। কী দুর্দান্ত স্পোর্টসম্যান! কী অসাধারণ অ্যাথলেট! জেতার উদগ্র বাসনা। হার বলে কোনো শব্দ নেই-ই ওর ডিকশনারিতে। যেমন তার ব্যাটের দাপট, তেমনই আগ্রাসী অধিনায়ক। আমার মতে, বিরাট হল যেকোনো টিমের কাছে স্বপ্নের সেই ক্রিকেটার, যাকে দেখে গোটা দল উদ্বুদ্ধ হয়।
প্রশ্ন : আপনার নিজের কথায় আসি। পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে আপনার সেরা প্রাপ্তি কী?
মিসবাহ : পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল যখন আমি দায়িত্ব নিই। তার আগেই গড়াপেটা নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছিল পাক ক্রিকেট। ক্যাপ্টেন হিসেবে আমাকে শুধু ম্যাচ জিতলেই হতো না। আমার দায়িত্ব ছিল ভাবমূর্তি ফেরানো। আমার নেতৃত্বে পাকিস্তান টেস্টে একনম্বর হয়েছে। বিশ্বসেরার র‌্যাংকিং বড় প্রাপ্তি নিশ্চয়ই।
প্রশ্ন : শোনা যাচ্ছিল যে, আপনাকে নাকি অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে? সেটা কি ঠিক? আপনি কি খুশিমনেই ক্রিকেট ছাড়লেন?
মিসবাহ : একেবারেই ভুল খবর। আমি খুশিমনেই ক্রিকেট ছেড়েছি। কোনো আক্ষেপ আমার নেই। বরং যেভাবে বিদায়ী টেস্টে গোটা দল আমাকে সম্মানিত করেছে, যেরকম আবেগপূর্ণভাবে আমাকে বিদায় জানিয়েছে ওরা, তা অভাবনীয়! দেশের হয়ে খেলার শেষ মোড়ে যে এ রকম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা আমার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে আমি
ভাবিনি। অবসরের দিনটায় দাঁড়িয়ে তাই ক্রিকেট ছাড়ার আক্ষেপ বা অনুতাপ নয়, গর্বিত লাগছিল নিজেকে নিয়ে। ক্রিকেট সারা জীবন কেউ খেলবে না, থেকে যাবে এই ভালোবাসাটাই।