আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

জয় তো চাই দুই টেস্টেই - সাকিব

ক্রীড়া ডেস্ক,

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তখনও বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেনি। এরআগেই বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। কী সেই স্বপ্ন? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ জেতার স্বপ্ন। অসিদের হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও তাই মনে করেন। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা সম্ভব বলেই বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের আনুষ্ঠানিক কোন অনুশীলন ছিল না। বাংলাদেশ দল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুশীলন করে। অনুশীলন শেষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এমন আশার বাণী শোনান সাকিব। সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুইটা টেস্ট কি জেতা যাবে? তার মানে সাকিবের টেস্ট সিরিজ থেকে প্রত্যাশাটা কী? সাকিব জানান, ‘আমার তো মনে হয় সম্ভব। সম্ভব না হওয়ার তো কিছু দেখি না। আর প্রত্যাশা দুই টেস্ট জেতা।’

কিভাবে জেতা সম্ভব তাও জানিয়ে দিয়েছেন সাকিব। বলেছেন, ‘টেস্ট জিততে হলে সবদিকেই ভাল করতে হবে। আমাদের সবকিছুই ভাল করতে হবে। ব্যাটিংও ভাল করতে হবে। বোলিংও ভাল করতে হবে। ওরা যে দল, যে পরিবেশেই আসুক, ওরা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। বিশ্বের যে কোন জায়গায় ওরা দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এটা ওদের চেয়ে ভাল কেউ পারে না। ওরা তাই আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। যদিও ওরা একটু অনভিজ্ঞ এখন এবং ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক সময়ে ওদের পারফর্ম তেমন ভাল নেই। আশা করব সেটা যাতে এখানেও অব্যাহত থাকে আর আমরা ভাল করতে পারি।’

স্পিন আক্রমণ নিয়ে এ সিরিজের আগে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর অক্টোবরে স্পিনেই ইংলিশদের কাবু করেছিল বাংলাদেশ। তাই মনে করা হচ্ছে মিরপুরে ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে স্পিনই আসল ভূমিকা রাখবে। আর তাতে তো বাংলাদেশই এগিয়ে থাকছে। সাকিব, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের মতো স্পিনার যে আছেন। সাকিবও তাই মনে করেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের স্পিন এ্যাটাক বেটার ওদের থেকে। সব কন্ডিশনে বলব না। আমাদের দেশে ওদের চেয়ে আমরা ভাল। তাইজুল-মিরাজ অনেকদিন ধরে ভাল বোলিং করছে। এই সিরিজে ওরা দারুণ কিছু করবে বলেই বিশ্বাস করি।’

এই স্পিন দিয়ে অসিদের কাবু করতে হলে উইকেটেরওতো সমর্থন লাগবে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঠ নতুনভাবেই যেন গড়ে উঠেছে। তাতে উইকেট আসলেই স্পিনারদের কথা বলবে কিনা তা নিয়ে একটু হলেও ভাবনা আছে। উইকেট নিয়ে তাই যখনই কথা উঠলো, সাকিব বলে দিলেন, ‘উইকেটের ওপর তো আমাদের হাত নেই। কিউরেটর হয়তো চেষ্টা করবে। ওটা নিয়ে বেশি চিন্তা করা ঠিক হবে না। আমাদের যে কোন উইকেটে, পরিবেশে আমাদের ওদের চেয়ে ভাল করার চেষ্টা করতে হবে। যেহেতু আমাদের হোম কন্ডিশন। আমাদের উচিত হবে দ্রুত মানিয়ে নেয়া। উইকেটে যদি স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকে তবে আমার জন্য ভাল। যেহেতু আমি একজন স্পিনার। একই সঙ্গে আমাদের পেসারদেরও কিন্তু উইকেট নেয়ার ক্ষমতা আছে। তারা দক্ষ। শুধু স্পিনারদের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। একটা টাইমে দেখা যায় বড় জুটি পেসাররা এসে তা ভেঙ্গে দেয়। একজন স্পিনারের চার, পাঁচ উইকেটের চেয়ে এটা বড়। এই জিনিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া টেস্ট জেতার জন্য ব্যাটিংটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ এগারো বছর পর অস্ট্রেলিয়া খেলতে এসেছে। ২০০৬ সালের আগে দুইদল চার টেস্টে মুখোমুখি হয়। অসিরা সবসময়ই জিতেছে। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখন বাংলাদেশ দল অনেক শক্তিশালী। বিশেষ করে দেশের মাটিতে। দেশের মাটিতে সর্বশেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ। সেই জয়ী টেস্টটিই প্রতিপক্ষের ঘুম যেন কেড়ে নিয়েছে। এই অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে কখনই বর্তমান বাংলাদেশ দলটি খেলেনি। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলও কখনই এই বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলেনি। অস্ট্রেলিয়াকে কী তাহলে হারানোর এখনই সেরা সময়? সাকিব মনে করছেন, ‘আমাদের দলের অবস্থা খুব ভাল। কিন্তু এটাই সেরা সুযোগ কিনা তা বলা মুশকিল। কারণ ওদের বিপক্ষে তো খেলিইনি আগে। খেললে আসলে বলতে পারতাম আগের দলের সঙ্গে বেশি সুযোগ ছিল নাকি এখনকার দলের সঙ্গে বেশি সুযোগ। ভাল-খারাপ বড় কথা নয়। বাাংলাদেশ দল জিততে পারলে সেটাই বড় ব্যাপার।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট খেলতে নামতেই ৫০তম টেস্ট খেলা হবে সাকিবের। ৫০ টেস্ট খেলতে সাকিবের ১০ বছর পার করতে হলো। তাতে আফসোস থাকাটাই কী স্বাভাবিক না? সাকিব বলছেন, ‘প্রথম টেস্ট খেলার সময় চিন্তা ছিল না যে কতটা খেলব, কতদিন খেলব। সে সময় একটা মজা ছিল। সেটা এখন নেই তেমন না। কিন্তু এখন পরিবেশ অন্য রকম, দায়িত্ব, সবকিছুই আলাদা। লাইফে খুব বেশি আফসোস নেই। ওদিক চিন্তা করলে যা হয়েছে তাতেই আলহামদুলিল্লাহ। বেশি খেলতে পারলে ভাল লাগতো। খেলতে পারিনি বলে আফসোস নেই। যতগুলো ম্যাচ খেলেছি তাতে কতটা পারফর্ম করেছি সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সামনে দুটি ম্যাচ চেষ্টা করব ভাল কিছু করতে। এ বছর আমাদের দলের অনেকেই খুব ভাল করেছে। আশাকরি এই সিরিজেও ভাল কিছু হবে।