আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৩৩ অপরাহ্ন logo

শনিবার, ০৩ Jun ২০১৭, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৭

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

মাগুরার শালিখা উপজেলা সদরের​ আড়পাড়ায় গতকাল শুক্রবার রাতে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা জামায়াতের সাবেক শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ (৪৮) রয়েছেন। অন্যরা ফরিদ আহমেদের বাড়ির ভাড়াটে।

জঙ্গি সন্দেহে আটক সাতজন হলেন মো. বাচ্চু মিয়া (৪০), ওবায়দুর রহমান (২৮), আবুল বাসার (৩২), রবিউল ইসলাম (২৬), জাহিদুল ইসলাম (২৮), আনোয়ার হোসেন (২২) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। তাঁরা দাবি করেন, দুই হাজার টাকা ভাড়ায় তাঁরা ঈদ পর্যন্ত ফরিদ আহমেদের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তাঁরা রিচার্জেবল বাল্ব ও কসমেটিকসহ অন্যান্য জিনিস ফেরি করে বিক্রি করছিলেন।

আজ শনিবার ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। বাকি ৭ জনের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভাড়াটে সাতজন হকার বলে জানা গেছে। ঈদ উপলক্ষে তাঁরা প্রসাধন সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে বিক্রির জন্য এখানে এসেছিলেন।

আটক করার পর গতকাল পুলিশ জানায়, ফরিদ আহমেদের বাড়ি তল্লাশি করে প্রচুর জিহাদি বইপত্র, রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

মাগুরা জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ফরিদ আহমেদের তিনতলা বাড়িটি আড়পাড়ায় উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পাশে। দোতলায় কৃষি ব্যাংকের আড়পাড়া শাখা। তৃতীয় তলায় ফরিদ আহমেদ সপরিবারে বাস করেন। ইফতারের পর পুলিশের কাছে খবর আসে ওই বাড়ির নিচতলায় সাতজন লোক ব্যাগ নিয়ে ঢুকেছেন। তাঁরা জঙ্গি হতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, বাড়ির মালিককেও আটক করা হয়। ফরিদ আহমেদ নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে আটক সাতজন হকার। তাঁরা ঈদের আগে এ অঞ্চলে কসমেটিকস, রিচার্জেবল বাল্বসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রির জন্য এসেছিলেন। তাই তাঁদের ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাড়ির মালিক ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। তাঁকেও আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

হকারদের কেন জঙ্গি সন্দেহে আটক করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তাঁরা সাতজনই ব্যাগ নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকে ছিলেন। বাড়িটি স্থানীয় জামায়াত নেতার। এলাকার লোকজন পুলিশকে ওই তথ্য দিয়েছেন। তাই পুলিশ তাঁদের আটক করে। তবে তাঁরা এখনো সন্দেহের বাইরে নন। আপাতত ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে এ মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বা আটক দেখানো হবে।