আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন logo

শুক্রবার, ২৬ মে ২০১৭, ১২:৫২ অপরাহ্ন

নজরুল মহাজীবন

কাজী নজরুল ইসলাম (১১ জৈ্যষ্ঠ ১৩০৬—১২ ভাদ্র ১৩৮৩) l মাসুক হেলালের নজরুল-প্রতিকৃতি অবলম্বনে প্রচ্ছদ মনিরুল ইসলাম
 

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

 

নতুন নজরুল জীবনীর খোঁজে : বর্ণিল ও বাঁধনহারা জীবন ছিল কবি কাজী নজরুল ইসলামের। তবে সে জীবনকে ঘিরে ধাঁধাও কম নেই। তাঁর বিচিত্র জীবন নিয়ে এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি জীবনীগ্রন্থ। তারপরও এখন নতুনভাবে পৃথক দুটি নজরুল-জীবনী লিখছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ ও গোলাম মুরশিদ। এত দিন পর কেন তাঁদের এই প্রয়াস? নতুন নজরুল-জীবনী রচনার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে উত্তর জানাচ্ছেন দুই লেখক

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে অনেকগুলো বই রয়েছে। সেগুলো প্রধানত তাঁর সাহিত্যিক জীবনী। প্রয়োজন তাঁর আপাতপূর্ণাঙ্গ জীবনী, যেখানে মানুষ, কবি, শিল্পী, সংগ্রামী ও সাধক নজরুলকে পাওয়া যাবে। সে রকম একটি জীবনী রচনার চ্যালেঞ্জ কম নয়। কারণ, নজরুলের জীবন নিয়ে গবেষণায় সমস্যা বহু।

নজরুলের ৮০তম জয়ন্তীতে বাংলা একাডেমি আমাকে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের আমন্ত্রণ জানায়। তারপর থেকে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে নজরুল-জীবনী রচনার উপকরণ সংগ্রহে উদ্যোগী হই। এর মধ্যে অনেক সময় পেরিয়েছে। এখন কাজ শেষ পর্যায়ে। আকারের দিক থেকে আমার নজরুল-জীবনীর বইটি তিন খণ্ডে দেড় হাজার পৃষ্ঠার বেশি হবে বলে ধারণা করছি।

সব ভাষার সাহিত্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা জীবনী-সাহিত্য। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই বড় বড় কবি-সাহিত্যিকের জীবন নিয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। শুধু প্রধানদের নয়, গৌণদের নিয়েও। উনিশ শতকের অনেক কবি-সাহিত্যিকের রচিত হয়েছে মূল্যবান জীবনবৃত্তান্ত। নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত (১৮৮১), যোগীন্দ্রনাথ বসুর মাইকেল মধুসূধন দত্তের জীবনচরিত (১৮৯৩), বিহারীলাল সরকারের বিদ্যাসাগর (১৮৯৫), চণ্ডীচরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিদ্যাসাগর (১৮৯৫), গিরিজাপ্রসন্ন রায়চৌধুরী প্রণীত বঙ্কিমচন্দ্র (১৮৯৩, ১৮৯৭, ১৮৯৮) প্রভৃতি জীবনীগ্রন্থ হিসেবে এককালে প্রসিদ্ধ হয়েছিল। পরবর্তীকালে এসব লেখক সম্পর্কে আরও সুলিখিত জীবনী প্রকাশিত হয়েছে।

বহু পরিশ্রম করে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের জীবনবৃত্তান্ত লিখেছেন। তাঁর রবীন্দ্রজীবনী মূলত সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের কথা, মানুষ রবীন্দ্রনাথ নন। রবীন্দ্রনাথের কোনো স্নেহধন্যের পক্ষে মানুষ রবীন্দ্রনাথ নিয়ে লেখা সম্ভব ছিল না। তিনি নিষ্ঠাসহকারে অসাধারণ পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু উপাদান জোগাড় করতে কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। মালমসলা হাতের নাগালেই ছিল। প্রভাত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় আমাকে দেখিয়েছেন কী বিপুল বইপত্র ঘেঁটে তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনী লিখেছেন। প্রশান্ত পাল রবি-জীবনী লিখতে গিয়ে অসংখ্য পত্রপত্রিকা ঘেঁটেছেন। তথ্য ও সন-তারিখপূর্ণ তাঁর কয়েক খণ্ড গ্রন্থ। জীবনী ততটা নয়, যতটা তথ্যভান্ডার। কয়েক হাজার পৃষ্ঠায় মানুষ রবীন্দ্রনাথকে পাওয়া যায় না। বাঙালির ভক্তিবাদী সমাজে কোনো মনীষীর জীবনী লেখা দুরূহ কাজ।

জীবনী লিখতে গিয়ে গ্রন্থাগার ও মহাফেজখানায় কাজ করতেই হয়। পাঠ করতে হয় অন্যান্যের স্মৃতিকথা ও মূল্যায়নমূলক বইপত্র। যাঁর জীবনী লেখা হবে, তাঁর রচনাবলি পাঠের বিকল্প নেই। তাঁর লেখা চিঠিপত্র, অপ্রকাশিত নোট, ডায়েরি (যদি লিখে থাকেন) প্রভৃতি অত্যন্ত সহায়ক। তার বাইরে তাঁকে কাছে থেকে দেখেছেন এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। সবার সব কথা নির্ভরযোগ্য নয়, ‘ক্রস চেকে’র মাধ্যমে যা যাচাই করতে হয়। একজন বড় মানুষের জীবনী রচনার জন্য তাঁর বাজারে কেনাকাটার রশিদগুলোর মূল্যও কম নয়। তাঁর খাদ্যাভ্যাস জানার জন্য যদি তাঁর বাবুর্চি বা বাড়ির কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো।

নজরুলের জীবনের তিন নারী: নার্গিস, ফজিলাতুন্নেসা ও প্রমিলা। ছবি: সংগৃহীত

নজরুলের জীবনের তিন নারী: নার্গিস, ফজিলাতুন্নেসা ও প্রমিলা। ছবি: সংগৃহীত

নজরুলের জীবনী লিখতে গিয়ে দুই বাংলায়ই কাজ করতে হয়। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন কলকাতার অধিবাসী। সপরিবার তিনি সেখানেই বাস করেছেন। কলকাতা বাংলার সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল ১৯৪৭ পর্যন্ত। বড় বড় গ্রন্থাগার, মহাফেজখানা সেখানেই। নজরুলের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিত মানুষদেরও প্রায় সবাই ছিলেন কলকাতার। সে জন্য আমাকে বহুবার যেতে হয়েছে কলকাতায়। শুধু কলকাতায় নয়, কলকাতার বাইরের গ্রন্থাগারগুলোতেও কাজ করেছি। বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া গেছে তথ্য।

কোনো ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত রচনা করতে গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সহায়তা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। বছর তিনেক আগে আমি ‘মওলানা ভাসানী স্মৃতি পাঠাগার’ উদ্বোধন করতে নিউইয়র্ক গিয়েছিলাম। তখন ফরাসি অস্তিত্ববাদী ঔপন্যাসিক আলবেয়ার কাম্যুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছিল। কাম্যুর কন্যা ক্যাথেরিনা কাম্যু তাঁর বাবার ওপর যে সচিত্র জীবনীগ্রন্থটি লিখেছেন, তা দেখে আমার ভাগ্যবিড়ম্বিত নজরুলের কথা মনে পড়ল।

যেকোনো বাঙালি মুসলমানের মতো নজরুলেরও দুর্ভাগ্য যে তাঁর কোনো সুযোগ্য সহযোগী ছিলেন না—অনুরাগী ছিলেন অগণিত। তাঁর পরিবারেও কেউ ছিলেন না, যিনি তাঁকে নিয়ে যাঁরা গবেষণা করবেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেন। বাংলা ভাষা এবং পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গে নজরুলকে তুলনা করা যাবে না। তাঁর মতো আত্মভোলা ও অবৈষয়িক মানুষ এই গ্রহে খুব বেশি জন্মাননি। অসংখ্য সভা-সমাবেশে নজরুল যোগ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর আলোকচিত্র এত কম কেন?

নজরুলের বইগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণ দুষ্প্রাপ্য। তাঁর পরিবারের কাছে সেগুলো থাকার কথা। তাঁকে বাংলাদেশের বহু জায়গায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনায় মানপত্র দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি পেয়েছেন উপহার। কোথায় সেসব মানপত্র ও উপহারসামগ্রী? সেই সব মানপত্রের বক্তব্য থেকে তাঁর জীবনী লেখার উপকরণ পাওয়া যেত। অবশ্য বারবার বাসা বদল হওয়ায় জিনিসপত্র খোয়া যাওয়া স্বাভাবিক।

নজরুল যে ধরনের ব্যক্তিত্ব—সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থাৎ জীবন ও জগৎ সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথা ঘরোয়া বৈঠকে ও ব্যক্তিগত আলাপে তিনি প্রকাশ করেছেন। সেসবের মূল্য সামান্য নয়। সেসব সংগ্রহের চেষ্টা হয়নি। আশির দশকে কলকাতায় কারও কারও থেকে তার কিছু উদ্ধারের চেষ্টা করেছি।

কোনো মহামানবই ফেরেশতা নন। তবে তাঁর অবদানের দিকটির জন্যই তিনি স্মরণীয়। প্রাবন্ধিক শিবরানায়ণ রায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেকের মতো আমারও চিঠিপত্র ও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ ছিল। তিনি বাংলাদেশের লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পছন্দ করতেন। নজরুল জন্মশতবার্ষিকীর কিছু আগে কলকাতায় কথা হচ্ছিল তাঁর ফ্ল্যাটে। আমি তখন মহাত্মা গান্ধী ও নজরুল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, নজরুলের ‘দুর্বলতা’ নিয়ে লেখা দরকার। আমি বললাম, যেহেতু তিনি অবিস্মরণীয়, তাঁর জীবনের দুর্বলতা শুধু নয়, সবকিছু নিয়েই লেখা উচিত। আলাপের একপর্যায়ে আমি বামপন্থী সমাজচিন্তক এম এন রায়ের শেষ জীবনের দু-একটি নেতিবাচক দিক বলতেই মৃদু চটে গেলেন তিনি। কোনো বাঙালি মনীষীর বস্তুনিষ্ঠ জীবনচরিত রচনায় বড় সমস্যা বাঙালি লেখক ও পাঠকের মন ও মানসিকতা।

যে মানুষ বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী, তাঁর সম্পর্কে বাঙালি অতিকথনে আনন্দ পায়। শেরেবাংলা একসঙ্গে ৮০টি ফজলি আম খেতে পারতেন, এ কথা বিশ্বাস করার মতো মানুষ সমাজে অল্পসংখ্যক নয়। আইনসভায় তাঁর অমূল্য ভাষণগুলো পাঠ করার আগ্রহ অতি অল্প মানুষের। নজরুলের প্রথম বিয়ের উপাখ্যানটি নিয়ে কেউ তদন্ত করেননি। আশির দশক পর্যন্ত নার্গিস আক্তার খানম এবং তাঁর মামা আলী আকবর খান জীবিত ছিলেন এবং ঢাকায় ছিলেন। আমি নার্গিসের স্বামী আজিজুল হাকিমের নরসিংদীর গ্রামের বাড়ি থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছি।

আমি আমার গবেষণার পদ্ধতি হিসেবে সব সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলি। নজরুলের জীবনের কোনো কোনো প্রসঙ্গ পরিষ্কার করার জন্য আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। এখনো যদি কোনো ব্যাপারে আমার খটকা লাগে, আমি বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলি। কলকাতায় কল্পতরু সেনগুপ্ত; বাম রাজনীতিবিদ ও লেখক হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কিছু ব্যাপারে দীর্ঘ কথা হয়েছে। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এবং তাঁর মেয়ে নূরজাহান বেগমের সঙ্গে কথা বলে কিছু কিছু বিষয়ে তাঁদের জেরা করেছি। ঢাকা বেতারে রহিমা খালা নামে একজন কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। তিনি ছিলেন নার্গিস খানমের প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ। তাঁর থেকেও নার্গিস সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। নজরুলের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, জীবনী লেখকের কাজ শুধু গবেষক বা একজন পণ্ডিতের কাজ নয়, তা গোয়েন্দা পুলিশের কাজ।

নজরুল ২৩-২৪ বছরে অসংখ্য মানুষের কাছে চিঠি লিখেছেন। তার সংখ্যা সাত-আট শর কম নয়। পেয়েছেনও তিনি অসংখ্য মানুষের থেকে চিঠি। কোথায় সেসব? কেউ যত্ন করে সেগুলো সংরক্ষণ করেননি। তাঁর জীবনী রচনায় সেগুলো ছিল মূল্যবান উপাদান।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এখন নজরুলের জীবনী রচনা বা নজরুলচর্চার প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? শতাব্দীর পর শতাব্দী ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। স্বাধীন বাংলায় নজরুলচর্চার প্রাসঙ্গিকতাও বেড়েছে। তিনি বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতি ও রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র—প্রেমিক ও বিপ্লবী, তিনি রোমান্টিক ও সমাজসজ্ঞান। বাংলাদেশের সংবিধানে যে চার মূলনীতি ঘোষিত হয়েছে, তার সব কটিরই প্রকাশ ঘটেছে তাঁর চিন্তা ও কর্মে।

বাংলা সাহিত্যে নজরুল নতুনত্বের স্রষ্টা। মানবমুক্তির দূতও। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষাভাষী-নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকারের জন্য যিনি কথা বলেছেন, তাঁর প্রয়োজন কোনো দিন শেষ হবে না। তিনি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, তিনি সারা দুনিয়ার নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি তাই আন্তর্জাতিকতাবাদী। আর সে জন্যই আজ তাঁর বাণী নিয়ে দেশে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা হচ্ছে।

নজরুলের জীবন নিয়ে এ পর্যন্ত যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। প্রত্যেক লেখক তাঁর নিজের পরিকল্পনা ও সাধ্যমতোই লেখেন, পাঠকের ভক্ত ও নিন্দুকের মর্জিমতো নয়। পরবর্তী লেখকদের কাজ তাঁদের কাজের সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করা ও বিচার-বিশ্লেষণ করা। আমি তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করে যা লিখছি, তা আমার সাধ্যের মধ্যেই করছি। কিন্তু এখানেই নজরুল-জীবন নিয়ে গবেষণা শেষ, তা মনে করা হবে ভুল। প্রবোধচন্দ্র সেনের মেয়েজামাই শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক ভবতোষ দত্ত (অর্থনীতিবিদ নন) আমাকে তাঁর শ্বশুরমশাইকে উদ্ধৃত করে যা বলেছেন, তা আমারও কথা। তাঁর ভাষায়: নজরুলের জীবনী বারবার লেখা হবে এবং তা শুধু এখন নয়—এক শ-দুই শ বছর পরে।