আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১২:০০ অপরাহ্ন logo

রবিবার, ২৮ মে ২০১৭, ১২:১৪ অপরাহ্ন

নওগাঁয় ফসলি জমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলন

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের সালেবাজ এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বসতঘরও হুমকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় দুই ব্যক্তি এর নেপথ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সালেবাজ এলাকার দাসকান্দি-হাঁপানিয়া সড়কের সঙ্গে লাগানো আবাদি জমিতে অগভীর নলকূপের যন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে উত্তোলন করা বালু ফেলা হচ্ছে পাশের জমিতে। সেখান থেকে ট্রাক্টরচালিত ছোট ট্রাকে করে বিক্রির জন্য বালু নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। চারপাশে রয়েছে পটল, ভুট্টা ও বেগুনের খেত। বালু উত্তোলনের স্থান থেকে ৫০-৬০ গজ দূরেই দাসকান্দি-হাঁপানিয়া সড়কের ওপর স্থাপিত একটি কালভার্ট রয়েছে। ৩০০-৪০০ গজ দূরেই রয়েছে কয়েকটি বসতঘর।

স্থানীয় ২০-২৫ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে মামুনুল হক সালেবাজ এলাকায় রাস্তার পাশে তাঁর নিজের দুই বিঘা জমি থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। তাঁর বাড়ি সালেবাজ গ্রামে। প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একই গ্রামের রুস্তম আলী। অগভীর নলকূপের যন্ত্র দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু তোলার ফলে পাশের ফসলি জমি ধসে পড়ছে। আশপাশের আরও অনেক আবাদি জমিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরে ওই কৃষকেরা বাধ্য হয়ে বালু উত্তোলনের জন্য তাঁদের জমি ইজারা দিয়েছেন। বালু বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাকচলাচলের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়েছে।

বালু উত্তোলনের সময় কথা হয় শফিকুল ও খবির উদ্দিন নামের দুই শ্রমিকের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, মামুন ও রুস্তমের নির্দেশে এখানে বালু ও মাটি তোলা হয়। বালুভর্তি প্রতি ট্রলি ১ হাজার ৩০০ টাকা ও মাটি ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, জমি থেকে বালু তোলার ফলে আশপাশের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২ বিঘা জমি দিয়ে শুরু করলেও এখন ১০-১২ বিঘা আবাদি জমিজুড়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশের আরও জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে একসময় মাঠের সব ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সালেবাজ গ্রামের দুজন গৃহবধূ বলেন, মেশিন দিয়ে বালু ওঠানোর ফলে আশপাশের জমি ভেঙে পড়ছে। এভাবে বালু তোলা চলতে থাকলে তাঁদের বসতঘরও ভেঙে পড়বে।

এ সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, ‘নিজের জমি থেকে বালু ও মাটি ওঠাই। অন্যের জমি জোর করে দখল করে তো বালু বা মাটি ওঠাচ্ছি না।’

কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘যেখানে বালু তোলা হচ্ছে সেটা আবাদি জমি। ওই স্থানে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য উপজেলা সমন্বয় সভায় একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত একবার সেখানে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানাও করেছেন। কিন্তু তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের সমস্যার কথা চিন্তা করে ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

উপজেলা ইউএনও রেজাউল বারী বলেন, সালেবাজ এলাকায় কৃষিজমিতে বালু ওঠানোর বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আবারও বালু উত্তোলন করার বিষয়টি তিনি জানেন না। কোনো ভাবেই আবাদি জমিতে বালু ওঠাতে দেওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।