আজ সোমবার, ২৬ Jun ২০১৭, ০৯:২৯ অপরাহ্ন logo

বুধবার, ৩১ মে ২০১৭, ০১:৪২ অপরাহ্ন

দিল্লিতে হিন্দিতে লালনের গান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির এই সাপ্তাহিক ছুটির দিন আক্ষরিক অর্থে হতে চলেছে লালনময়। এই লালনসন্ধ্যা বাংলা ও বাঙালির হৃদয় ছাপিয়ে জয় করতে চলেছে হিন্দিভাষী ভারতীয়দের মন। হিন্দিতে অনূদিত লালনের গানের সুর ও বাণীর মূর্ছনা ছড়াতে রাজধানী এসেছেন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিন। তাঁর কাছে এ যেন নতুন আঙিনায় এক নতুন অভিজ্ঞতা।এই আঙিনায় ফরিদা পারভিনের পদচারণ যাঁর হাত ধরে, তিনি ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার মুচকুন্দ দুবে। লালনের শতাধিক গান হিন্দিতে অনুবাদ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, ‘লালন শাহ ফকির কি গীত’ নামে সেই হিন্দি রচনা তিনি প্রকাশ করতে চলেছেন। সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে ফরিদা পারভিনের কণ্ঠে হিন্দিতে লালনগীতির ডিভিডি। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় আগামী শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সেই বই ও ডিভিডি প্রকাশ করবেন। পূর্ণতা পাবে এক দীর্ঘ অধ্যায় ও অধ্যবসায়ের পর্ব।

তার ঠিক আগের দিন শুক্রবারের অপরাহ্ণে সবুজে-সবুজ ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার মাতোয়ারা হবে লালনের কথা ও গানে। কীভাবে, কবে থেকে, কেন তিনি লালনে মাতলেন, তা ব্যাখ্যা করবেন মুচকুন্দ দুবে নিজেই। সঙ্গী থাকবেন ফরিদা পারভিন, যিনি তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার সাথি ও সাক্ষী।

অবিভক্ত বিহারের সাঁওতাল পরগণায় দেওঘরের বাসিন্দা দুবে পরিবার। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সাঁওতাল পরগণার সর্বত্র বাঙালিদের কাছে ছিল স্বাস্থ্য ফেরানোর জায়গা। দেওঘর, ঝরিয়া, গিরিডি, হাজারিবাগ, মধুপুর, পালামৌ, বাংলা সাহিত্যে যা ‘পশ্চিম’ বলে বিখ্যাত হয়ে রয়েছে, তা ছিল বাঙালিয়ানায় সয়লাব। মুচকুন্দ দুবের কথায়, ‘আমার স্কুলে মাস্টারমশাইরা ছিলেন বাঙালি, সহপাঠীদেরও অনেকেই বাঙালি। দোকানের সাইনবোর্ডগুলোয় থাকত হিন্দির সঙ্গে বাংলা। বাংলা গান, বাংলা সাহিত্য, বাংলা লোকগাথা আমাকেও ধীরে ধীরে বাঙালির কাছে টেনে আনে। যেমন টানত নির্মলেন্দু চৌধুরী, আব্বাসউদ্দীন ও বাউলদের লোকগীতি।’

সেই মুচকুন্দ দুবে ঢাকায় প্রথম যোগদানের সময় থেকেই মজে গেলেন লালনে। প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাউল গান টানত ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশে গিয়ে লালনের জীবনদর্শনে মজে গেলাম। সবার ওপরে মানুষই যে সত্য, লালন তাঁর জীবন ও গান দিয়ে তা উপলব্ধি করিয়েছেন। শ্রীচৈতন্যের একটা প্রভাব আমার মধ্যে ছিল। লালন সেখানে জাঁকিয়ে বসলেন।’

রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ হিন্দিতে অনুবাদ করেছিলেন মুচকুন্দ দুবে ১৯৫৩ সালে। ঢাকায় থাকাকালে অনুবাদে হাত দেন শামসুর রাহমানের কবিতা এবং লালন। শেষ পর্যন্ত লালনে মজে মোট ১০৫টি গান হিন্দিতে অনুবাদ করে ফেলেন।

এই করতে করতেই ফরিদা পারভিনের সঙ্গে গড়ে ওঠে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ‘লালন ছিলেন নদিয়া-কুষ্টিয়ার মানুষ। ফরিদা পারভিনও কুষ্টিয়ার। হাইকমিশনার থাকাকালে ফরিদা আমারই অনুবাদ করা হিন্দিতে লালনের গানের চারটি ক্যাসেট করেছিলেন। সেটা ৮০-৮১ সাল। আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট রামচন্দ্র রথ উৎসাহ দিতে লাগলেন। বললেন, না থেমে এগিয়ে যাও। বই বের করো।’

সাহিত্য একাডেমি থেকে প্রকাশিত সেই বই-ই শনিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ফরিদা পারভিনের হিন্দি লালনগীতির ডিভিডি। উপস্থিত থাকবেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি বিশ্বনাথ প্রসাদ তিওয়ারি, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিসার্চের সভাপতি লোকেশ চন্দ্র। প্রথম আলোকে মুচকুন্দ দুবে বললেন, ‘পৃথিবীজুড়ে যা চলছে, সেই আবহে লালন আজ বড়ই প্রাসঙ্গিক।’