আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৬:০৩ অপরাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০১৭, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

বাহারি ইফতারির পসরা

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

শামিয়ানার নিচে অস্থায়ী দোকানে হরেক রকমের ইফতারির পসরা। চারদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। চলছে বেচাকেনা। পুরান ঢাকার চকবাজার শাহি মসজিদের সামনের সড়কের দৃশ্য এটি। গতকাল রোববার পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই জমে উঠেছিল চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির বাজার।

এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির বাজারে বিক্রি হওয়া ইফতারি তৈরির প্রক্রিয়া ও পরিবেশনায় পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির বাজারে রয়েছে শতাধিক অস্থায়ী দোকান। এ ছাড়া আরও অর্ধশতাধিক স্থায়ী দোকানে ইফতারি বিক্রি করা হয়।

চকবাজারের শাহি মসজিদের সামনের সড়কজুড়ে বসে ইফতারির বাজার। গতকাল সেখানে ছিল ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় l ছবি: প্রথম আলোগতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, সব দোকানেই ক্রেতাদের প্রচুর ভিড়। ইফতারি কিনতে সেখানে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। বাতাসে মুখরোচক খাবারের ঘ্রাণ। যাঁরা চকবাজার থেকে বের হচ্ছেন, তাঁদের প্রায় সবার হাতেই ব্যাগভর্তি ইফতারি।

চকবাজারে মুরগি ও খাসির রোস্ট, সুতি কাবাব, শাহি জিলাপি, কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও, হালিম, লাচ্ছি, দই, লাবাং ও মাঠা, পিঠা, পায়েস, ঘুগনি, পনির, ছোলা, মুড়ি, সমুচা, শিঙাড়া, নিমকি, খেজুর, বেগুনি, আলুর চপসহ হরেক রকমের ইফতারি বিক্রি হয়। এ ছাড়া বিক্রি হয় মৌসুমি ফল আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, তরমুজ, লিচু, পেঁপে, আনারস, বাঙ্গি এবং শসা, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা।

একেক দোকানে একেক দামে ইফতারি বিক্রি করতে দেখা যায়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, মুরগির রোস্ট প্রতিটি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সুতি কাবাব প্রতিকেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, জালি কাবাব (গরু) ৫৫০ থেকে ৬০০ এবং খাসির কাবাব ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিক কাবাব প্রতিটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কিমা পরোটা প্রতিটি ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের একেকটি শাহি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ২২০ টাকা।

একটি দোকানে সুর করে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নামের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়। এই খাবার তৈরির উপকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দোকানি আমির হোসেন বলেন, ১২ রকমের মাংস, ডাল ও ১২ ধরনের মসলা দিয়ে এই খাবার তৈরি করা হয়। প্রতি কেজির দাম ৪০০ টাকা। পুরান ঢাকায় এই খাবারের ঐতিহ্য প্রায় ৭২ বছরের। তিনি আরও বলেন, তাঁর দোকানে খাসি, কোয়েল পাখি ও মুরগির রোস্ট, সুতি কাবাবসহ হরেক রকমের ইফতারি বিক্রি করা হয়। বাবুর্চি দিয়ে বাসায় এসব খাবার তৈরি করা হয়। খাবার আকর্ষণীয় করতে তাঁরা কোনো ধরনের রং ব্যবহার করেন না।

এদিকে ইফতারি তৈরির প্রক্রিয়া ও পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা। পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ থেকে ছেলে মো. হুজাইফাকে নিয়ে ইফতারি কিনতে আসা ইব্রাহীম মনি বলেন, ‘বাজারের বেশির ভাগ বিক্রেতাই গ্লাভস কিংবা মাথায় ক্যাপ ব্যবহার করছেন না। এ ছাড়া প্রায় সব দোকানে ইফতারি খোলা অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে। আজ (রোববার) বৃষ্টি হওয়ায় ধুলাবালু কম। বৃষ্টি না হলে ইফতারি ধুলাবালুতে মাখামাখি হয়ে যেত।’

ইব্রাহীম মনি বলেন, তিনি ৪৫ বছর ধরে রমজান মাসে চকবাজার থেকে ইফতারি কেনেন। তাঁর বাবা জীবিত থাকাকালে এই এলাকা থেকে ইফতারি কিনতেন। গতকাল তিনি কিনেছেন শাহি জিলাপি, হালিম, বড় বাপের পোলায় খায়, শাহি পোয়া রুটি।

চকবাজারের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও দোকানি বলেন, চকবাজারের অনেক ইফতারি সেই মোগল আমল থেকে চলে আসছে। আবার অনেক উপকরণ নতুন সংযোজিত হয়ে বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে।

চকবাজারে বংশপরম্পরায় বিভিন্ন ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছেন আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর বাবা আগে এই ব্যবসা করতেন। এখন তাঁরা তিন ভাই প্রতি রমজান মাসে ইফতারি বিক্রি করেন।