আজ রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ০৬:০১ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ১৯ মে ২০১৭, ১২:০৩ অপরাহ্ন

এবারও রাজশাহীর আম যাবে ইউরোপে

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কলিগ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ছানা। এবার প্রায় তিনশ’ বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছেন। এরমধ্যে উৎপাদিত আমের দু’শ টন পাঠাতে চান বিদেশে। এ জন্য মৌসুমের শুরু থেকে নিয়েছেন প্রস্তুতি।
বাজার ধরার তাড়া। তাই শেষ মুহূর্তে যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই। সারা দিন বাগান ঘুরে ঘুরে তদারকি করছেন। কখন কী ধরনের পরিচর্যা লাগবে তাও করছেন। কারণ, আমে পোকা তো দূরের কথা, কোনো ধরনের সামান্য দাগ থাকলে তা আর চলবে না।


এ জন্য রফতানির শর্ত অক্ষরে অক্ষরেই পালনের চেষ্টায় খুবই যত্নে বড় করছেন আম। শফিকুল জানান, এবার কমপক্ষে দু’শ টন আম বিদেশে রফতানির প্রস্তুতি চলছে। সপ্তাহ খানেক পরই বাগান থেকে আম পাড়া হবে।

এরপর সেই আম রফতানিকারকদের মাধ্যমে চলে যাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আমে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার হয়নি। নির্ভেজাল আমের বাজার ধরতে পেরে তিনি বেশ খুশি।

গত বছরও শফিকুল ইসলাম বিদেশে আম পাঠিয়েছিলেন। তবে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য তিনি কৃষি বিভাগ ও হটেক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন ও হটেক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট এসব আম কিনে নিয়ে বিদেশে বাজারজাত করে থাকে।

শফিকুলের মতো অনেক চাষীরই ভাগ্য ফিরেছে আম বিদেশে পাঠিয়ে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার অন্তত দেড়শ’ চাষী উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। এরই মধ্যে এসব চাষীকে নিয়ে গড়ে উঠেছে সমিতিও।

চাষীদের সংগঠন রাজশাহী এগ্রোফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, গত বছর তিনি বিদেশে আম পাঠিয়েছিলেন। এবারও পুরো প্রস্তুতি রয়েছে।

এ জন্য তিনি নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় বাগান লিজ নিয়ে পরিকল্পিতভাবেই আম উৎপাদন করছেন। এ বছর প্রচুর মুকুল ধরেছিল। আমের গুটিও ছিল পর্যাপ্ত। কিন্তু কয়েক দফা কালবৈশাখীতে বেশকিছু আম ঝরে গেছে। তবু যে পরিমাণ আম রয়েছে তাতে বেশ আশাবাদী তিনি। এবার অন্তত ২৫ টন আম তিনি রফতানির আশা করছেন।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, বাঘা থেকে ৩০ জন চাষীকে ঢাকায় পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের পোকার আক্রমণ ঠেকাতে স্যাক্স ফেরমোন ফাঁদ রাখা হয়েছে গাছে। পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত এই ফ্রুট ব্যাগিং করা ছাড়াও আম দূষণমুক্ত রাখতে বাগানের মাটি এবং সেচের পানিও পরীক্ষা করা হয়। ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ পদ্ধতিতে শোধন করে হাতে গ্লাভস পরে এসব আম প্যাকিং করা হয়।

যাতে কোনো ধরনেরই দাগ না পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার যৌথ সনদে এসব আম পাঠানো হবে। ইউরোপের দেশগুলোতে রাজশাহীর আমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম পাঠানোর কথা বাঘা থেকেই।

কারণ, বাঘার আম বেশি সুস্বাদু। বাগানও বেশি। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, কৃষি বিভাগ ও ফল গবেষণাগার পুরো মৌসুম ধরেই কঠোর মনিটরিং করে থাকে।

যাতে আম রোগ বা পোকামাকড়ে আক্রান্ত না হয়। এসব আমের গুটি ছোট থাকা অবস্থায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তবে পাকার এক মাস আগ থেকে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ রেখে ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সুরক্ষিত করা হয়।

এতে আমে কোনো পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারেনি। বর্তমানে খিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা ও ফজলি বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে আমের দাম এখনও নির্ধারণ হয়নি।