আজ বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭, ০৬:০৪ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ১৯ মে ২০১৭, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় চুল কেটে স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

সারা শরীরে ক্ষতের চিহ্ন। কেটে ফেলা হয়েছে মাথার চুল। অসহনীয় যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন কুষ্টিয়ার মেয়ে সঙ্গীতা। কোনো অপরাধ না থাকলেও যৌতুক আর সন্দেহের বসে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে।
জানা যায়, ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান মাস্টার্স পাস সঙ্গীতার বিয়ে হয় মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মন্ডুপ গ্রামের বেকার ছেলে সাইফুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে। বিয়ের পর সঙ্গীতার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। বিষয়টি পরিবারের কাছে না জানালেও মুখ বুজে নির্যাতন সইতে হয় তাকে। কিন্তু আর কত।


বুধবার নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণে। শরীরে ডাসার উল্টোপিঠের মুহুর্মুহু আঘাত, সেই সঙ্গে সিগারেটের ছ্যাঁকা। এরপর কেটে ফেলা হয় মাথার চুল। বুধবার রাত ৩টার সময় পানি খাবার নাম করে কোনোমতে পালিয়ে আশ্রয় নেন ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের এক বাড়িতে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সঙ্গীতার বোন শিল্পী খাতুন জানান, বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত আমার বোনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। সিগারেটের ছ্যাঁকা ও ডাসা দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নির্যাতন। নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। রাত ৩টার দিকে সঙ্গীতা বাড়ি থেকে পালিয়ে ৪ কিলোমিটার দূরের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে আমার মেজো বোনের কাছে ফোন দিয়ে বলে আপা আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এই বলে সঙ্গীতা অজ্ঞান হয়ে যায়।

মানিকগঞ্জের এক লোক ফোনে আমাদের সব জানায়। আমরা মেজো ভাইসহ আত্মীয়স্বজন গিয়ে সঙ্গীতাকে নিয়ে এসে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমন রহমান জানান, সঙ্গীতার মাথায় বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সারা শরীর থেঁতলানো ও মারের আঘাত আছে। বিশেষ করে দুই হাত ও পায়ে বেশি আঘাত করা হয়েছে। মাথার চুল কাটা ও মাথা দিয়ে রক্তক্ষরণও রয়েছে।
তবে স্ত্রীর ওপর এমন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সঙ্গীতার স্বামী সাইফুল ইসলাম সবুজ।

তিনি বলেন, সঙ্গীতার চরিত্র ভালো না। আমার চাচাতো ভাইসহ এলাকার একাধিক ছেলের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। আমাকে ঘরে তালা দিয়ে সে পালিয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ সিংগাইর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, সবুজের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে সঙ্গীতা অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে সঙ্গীতার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।