আজ রবিবার, ২৫ Jun ২০১৭, ১১:৩০ অপরাহ্ন logo

বুধবার, ১০ মে ২০১৭, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

‘৭০ গোল করাও সম্ভব ছিল’

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :

ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে চলছে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপ। আসলে চলছে গোলের সুনামি। নৌবাহিনী তিন ম্যাচে করেছে সর্বোচ্চ ১০১ গোল, সেনাবাহিনী ৯০! এসব দেখে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মান নিয়ে ভীষণ হতাশ জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক ও নৌবাহিনীর কোচ মাহবুব হারুন
* গ্রুপের তিন ম্যাচেই আপনার দল গোলের সেঞ্চুরি করেছে। এত গোল নিজেরা চাইছেন নাকি হয়ে যাচ্ছে?
মাহবুব হারুন: নিজেরা চাইনি, হয়ে গেছে। ১১ জনের বদলে একটা ম্যাচে সর্বনিম্ন সাতজন খেলানো যায়, জিমিকে বাদ রেখে আটজন নামিয়েও নৌবাহিনী দল বৃষ্টির মতো গোল পেয়ে গেল।
* অনেকে রসিকতা করে এটিকে সার্কাস লিগ বলছেন...
হারুন: আমি অত রূঢ়ভাবে বলব না। তবে এত গোল আমার মোটেও ভালো লাগেনি। জিমিকে আমি সেভাবে খেলাইনি। তবে খেলালে এমনও হয়েছে, হয়তো বলেছি এখন গোল করবে জিমি। তাই অন্য খেলোয়াড় গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করেনি। গোল করলে ব্যবধানটা কোথায় দাঁড়াত বুঝুন!

* তাহলে তো ৬০-৭০ গোলও হয়ে যেত। তবে গাজীপুরকে ৩১, মেহেরপুরকে ২৭ ও নড়াইলকে আপনার দলের দেওয়া ৪৩ গোলও তো বিশাল...
হারুন: সত্যি বলতে, ৭০ মিনিটে ৭০ গোল করাও সম্ভব ছিল! সেন্টার থেকে ১১ সেকেন্ডেও গোল হয়েছে। প্রতিপক্ষ নিজেদের মধ্যে একটু দেওয়া-নেওয়া করলেও সময় নষ্ট হতো। কিন্তু সেটাও তারা পারেনি। আসলে স্কুলের ছোট ছেলেদেরও নিয়ে আসা হয়েছে। এরা জিমি-চয়নদের সামনে শিশু। এদের তো মাঠে ছাড়তে হবে কিছু শিখিয়ে-পড়িয়ে, তাই না?
* নড়াইল জেলা তিন ম্যাচে খেয়েছে ৫৪ গোল, বরিশাল ৪৪, সিলেট ৪০, ঝিনাইদহ ৩৬, রংপুর ৩৫! জেলা দলের এই রুগ্ণ অবস্থা কেন?
হারুন: কোনো টিমেরই আসলে অনুশীলন নেই। জেলার গাফিলতির কারণেই এ অবস্থা। হ্যাঁ, খেলায় জয়-পরাজয় আছেই। আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তান ৫৬ গোল দিয়েছে ম্যাকাওকে। কিন্তু আমাদের এখানে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যা হচ্ছে, হকির জন্য ভালো বিজ্ঞাপন নয়।
* অনেকে বলেন, ভোটের রাজনীতিতে কাউন্সিলরশিপ বাঁচাতেই নামকাওয়াস্তে অনেক জেলা দল খেলতে এসেছে?
হারুন: এটা ফেডারেশন বলতে পারবে। আমি বরং বলি, নড়াইলের খেলোয়াড়েরা আমাকে বলেছে, দুপুরে ওদের বলা হয়েছে রাতে ঢাকায় যেতে হবে হকি খেলতে। এভাবে কি হয়!
* আপনি কি মনে করেন ফেডারেশনের তদারকি ছিল?
হারুন: শক্তিশালী দলগুলোকে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড বা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে খেলাতে পারত ফেডারেশন। তাহলে গ্রুপ পর্বে এমন গোলবন্যা হয় না। ভবিষ্যতে দেখবেন জেলাগুলো দল পাঠাতে আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে।
* তাহলে তো হকির সামনে অশনিসংকেত...
হারুন: অশনিসংকেতই। তবে এই অবস্থা হতো না, যদি ফেডারেশনের কাছে জেলা দলগুলো কোচ চাইত। কিন্তু চায়নি। চাইলে অন্তত কয়েকটি দিন অনুশীলন করতে পারত। এত গোলও খেত না।
* আপনার জেলা ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরিদপুর তো গ্রুপ থেকেই বিদায়ের শঙ্কায়। নিজের কাছে কেমন লাগে?
হারুন: ফরিদপুরের তো খেলোয়াড়ই নেই। তাই গ্রুপ থেকেই বিদায় অস্বাভাবিক নয়। তবে জেলাগুলোর দুরবস্থা এমন যে, ফরিদপুরও খাদে পড়েছে। খুব খারাপ লাগছে।