আজ মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন logo

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

উত্তর কোরিয়া গোপনে পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরি করছে

নিউজডেস্ক

 

জনতার নিউজ২৪ ডটকম : উত্তর কোরিয়া গোপনে পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরি করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এটি নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে দেশটি প্রত্যাশা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে জাপানি দৈনিক সেকাই নিপ্পো। সূত্রটি উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিচিত বলেও দাবি করেছে দৈনিকটি।

খবরে আরো দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নাম্পো ন্যাভাল শিপইয়ার্ডে এটি নির্মাণে একযোগে সহায়তা করছে চীন ও রাশিয়ার প্রকৌশলীরা।

ডিজেল-বিদ্যুতের চেয়ে পরমাণু ডুবোজাহাজ নির্মাণের কাজ তুলনামূলকভাবে জটিল ও ব্যয় বহুল। অবশ্য পরমাণু ডুবোজাহাজের গতি অনেক বেশি হয়। সাগর তলে প্রায় অনির্দিষ্টকাল ওঁত পেতে বসে থাকতে পারে। জ্বালানির জন্য পানির ওপর ওঠার কোনো প্রয়োজন না থাকায় এমনটি সম্ভব হয়। এ ছাড়া, এ ধরণের ডুবোজাহাজ দিয়ে চালানো যায় বহুমুখী ও বিস্তৃত তৎপরতা।

পরমাণু ডুবোজাহাজ সাধারণভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত হয়ে থাকে। ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে তুলনামূলক সংগোপনে ও নিঃশব্দে এ অস্ত্র পানির তল থেকে ছোঁড়া যায়। পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দিনের পর দিন জোরদার হয়ে উঠছে। এ ছাড়া, দেশটি ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় দফা ডুবোজাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

উত্তর কোরিয়া বহরে ৫০ থেকে ৬০টি ডিজেল-বিদ্যুৎ চালিত ডুবোজাহাজ রয়েছে। পরমাণু ডুবোজাহাজ যোগ হলে তাতে নৌবহরের সক্ষমতা নিঃসন্দেহে এক লাফে বহুদূর এগিয়ে যাবে।

যত বেশি নিষেধাজ্ঞা পরমাণু কর্মসূচি তত জোরদার হবে : উ. কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে যত বেশি নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করা হবে পিয়ংইয়ং-এর পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি তত বেশি জোরদার করা হবে।

আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া এক কঠোর বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে সর্বশেষ আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, অনৈতিক ও অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিটি সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগেরে যে নীতি গ্রহণ করেছে তার ফলে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি আরো জোরদার হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার জনগণ ও সরকারকে ‘সত্যিকার অর্থে ধ্বংস’ করে ফেলা।

এর আগে শনিবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছিলেন, সামরিক শক্তিতে তার দেশ আমেরিকার সমঅবস্থায় পৌঁছাতে চায়।

গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে একটি মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত সাগরে গিয়ে পড়ে। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়াম যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় সে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার আনা একটি প্রস্তাব পাস হয় যার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে উ. কোরিয়া!
মার্কিন ভূখণ্ডে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে হলে উত্তর কোরিয়া ক্যালিফোর্নিয়াকেই বেছে নেবে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন বিশ্লেষক হ্যাল ক্যাম্পফার। পাশাপাশি সম্ভাব্য পরমাণু হামলার পর গোটা ক্যালিফোর্নিয়ায় কি ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে হবে তারও রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি। বর্তমানে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসে সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে রয়েছেন।

মার্কিন জনস্বাস্থ্য এবং জরুরি সেবায় জড়িত কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

হ্যাল ক্যাম্পফার বলেন, উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচ পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর অন্যতম ব্যস্ত ব্যবসা কেন্দ্র এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় একে হামলার জন্য বেছে নেয়া হবে। অবশ্য গোটা ক্যালিফোর্নিয়া ধ্বংস করার মতো শক্তিশালী পরমাণু বোমা পিয়ংইয়ংয়ের নেই বলে মনে করেন তিনি। তারপরও হামলায় বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসবে সেখানে। লাখ লাখ মানুষ মারা যাবেন।

পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ বা ইএমপি কাছাকাছি সব ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ধ্বংস করে দেবে। এতে অকেজো হয়ে যাবে মোটর গাড়ি ও ফোন লাইনের মৌলিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও। সাহায্যের জন্য ফোন করাও জটিল হয়ে দাঁড়াবে।

কোনোভাবে গাড়ি স্টার্ট দিতে পারলে নগরী ছেড়ে সহজে বের হওয়া যাবে না। কারণ পলায়নপর মানুষের যানজটের বিশাল সারিতে পড়তে হবে সেখানেও।

এ ছাড়া, খাদ্য ও নিত্যপণ্য নিয়ে দাঙ্গা ও বন্দুকযুদ্ধ শুরু হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার উপযোগী প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উ.কোরিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তার দেশের সামরিক শক্তিকে আমেরিকার সম-অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানানোর পরপরই এ অঙ্গীকার করেন তিনি।

কিম জং-উনের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ এ খবর জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, “সামরিক শক্তিতে আমেরিকার সম-অবস্থানে পৌঁছানো হচ্ছে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য যাতে মার্কিন শাসকরা আর কখনো উত্তর কোরিয়ায় সামরিক হামলার হুমকি দেয়ার ধৃষ্টতা না দেখায়।”

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, শুক্রবার তার দেশের পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেয়া সত্ত্বেও দেশের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে পরিপূর্ণতা দেয়ারও ঘোষণা দেন কিম জং-উন।

শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে মাঝারি-থেকে-দূরপাল্লার হুয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা আগে জাপানকে ‘সাগরে ডুবিয়ে’ দেয়ার হুমকি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং।

ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে উড্ডয়নের পর জাপানের কর্মকর্তারা নিয়মিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান বন্ধ করে হোক্কাইদো দ্বীপের অধিবাসীদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণ সে আহ্বানে সাড়া দেয়। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি হোক্কাইদো দ্বীপে আঘাত হানার পরিবর্তে এর আকাশ দিয়ে উড়ে যায় এবং দ্বীপটিকে অতিক্রম করে আরো ২,২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পতিত হয়।

গত রাতেই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানালেও নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

গুয়াম দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম উ.কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র
যুদ্ধের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপের তোয়াক্কা না করে আবার জাপানের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রটি গুয়াম দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম।

জাপানের উত্তরে হোক্কাইডো দ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর আছড়ে পড়েছে সেটি। স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে সাইরেনের শব্দে মানুষ সতর্ক হয়ে পড়ে।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়। তবে পর পর এমন দুটি ঘটনা সত্ত্বেও জাপানের উত্তরে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাদের সূত্র অনুযায়ী, ১৯ মিনিট ধরে সেটি আকাশে ছিল। ৭৭০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছোঁয়ার পর সেটি মোট ৩,৭০০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানে। অর্থাৎ গুয়াম দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ছিল।

এই সাফল্য সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা আয়ত্ত করেছে কিনা, তা নিয়ে অনেক মহলে সন্দেহ রয়ে গেছে।

যাবতীয় চাপ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার এমন ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণের জবাব কী হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। অ্যামেরিকা ও জাপানের অনুরোধে শুক্রবারই জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, গোটা বিশ্বকে একযোগে উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে হবে। সে দেশ তার আচরণের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি বিঘ্নিত করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে উত্তর কোরিয়া জাপানকে ‘ডুবিয়ে দেবার' হুমকি দিয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সে দেশের বিরুদ্ধে ‘নতুন পদক্ষেপ' নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া আরো একঘরে হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলেছেন, এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ একেবারেই অসম্ভব। তিনি উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলা করতে নিজের প্রশাসনে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সরাসরি সমরাস্ত্রের আঘাত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পাল্স অথবা জৈব রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কা করছে।

উ.কোরিয়ার লাগাম টেনে ধরতে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের
উত্তর কোরিয়ার বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের লাগাম টেনে ধরতে ‘সরাসরি পদক্ষেপ’ নিতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংইয়ং একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর তারা এ আহবান জানালো। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের ওপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এক বিবৃতিতে বলেন, একদিকে ‘চীন তাদের বেশিরভাগ তেল উত্তর কোরিয়ায় সরবরাহ করে থাকে। অপরদিকে রাশিয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার বিশাল শ্রমবাজার। কোরিয়ার এমন বেপরোয়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না এই ব্যাপারে রাশিয়া ও চীনকে তাদের নিজ দেশের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে হবে।’

শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের হোক্কাইদো দ্বীপের ওপর দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ছে। স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৫৭ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট আকাশে থাকার পর এটি স্থানীয় সময় ৭টা ১৬ মিনিটে সাগরে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠেছিল। এ ছাড়া, সাগরে পড়ার আগে এটি ৩৭০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।

ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত আরো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এদিকে জাপানে এ ক্ষেপণাস্ত্র বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। জাপানের আকাশসীমা দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেশটির এনএইচকে টেলিভিশন হোক্কাইদো দ্বীপবাসীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায়। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৬ মিনিটের সময়ে এটি জাপানের আকাশসীমা পাড় হয়ে যায়।

পিয়ংইয়ংয়ের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠকে বসবে জাপান সরকার।

এদিকে জাপানের প্রধান ক্যাবিনেট সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, গত মাসের ২৯ তারিখে উত্তর কোরিয়া যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল আজকেরটি হয়ত তারই মতো। কঠোর ভাষায় পিয়ংইংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিন্দা করেছে জাপান।

দক্ষিণ কোরিয়াও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক তলব করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের পরীক্ষার জবাবে জাপান সাগরে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

উ.কোরিয়ার হাইড্রোজেন বোমায় দেবে গেছে আস্ত একটা পর্বত!

হিরোশিমায় পড়া বোমার চেয়ে ১৭ গুণ বেশি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা ভূগর্ভে ফাটিয়েছিল উত্তর কোরিয়া আর তার জেরে দেবে গেছে আস্ত একটা পর্বত! এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারণ সম্প্রতি একটি উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, সে দিন পরীক্ষামূলকভাবে ভূগর্ভে হাইড্রোজেন বোমা ফাটায় আস্ত একটা পর্বতের শীর্ষদেশ দেবে গেছে উত্তর কোরিয়ায়।

মনে করা হচ্ছে, পিয়ংইয়ং থেকে বেশ কিছুটা দূরে পাঙ্গি-রি এলাকায় ৮৫ একর জায়গা জুড়ে থাকা ওই মাউন্ট মান্তাপের তলায় কাটা সুড়ঙ্গে গত ৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, সেই বোমা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মাউন্ট মান্তাপের শীর্ষদেশের ৮৫ একর এলাকা একেবারে দেবে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের ইস্ট এশিয়া প্রোগ্রামের প্রধান জেফ্রি লুইস বলেছেন, ‘‘উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, দুই হাজার ২০৫ মিটার উচ্চতার ওই মাউন্ট মান্তাপের ৮৫ একর এলাকা অনেকটাই দেবে গেছে।”

একটি মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা এয়ারবাসের পাঠানো ‘টেরাসার-এক্স’ উপগ্রহ সেই ছবি তুলেছে বলে লুইস জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওই হাইড্রোজেন বোমাটির ক্ষমতা ছিল প্রায় ১০০ কিলোটন। উপগ্রহের পাঠানো ছবি পরীক্ষা করে এবার তারা বলছেন, ওই হাইড্রোজেন বোমার ক্ষমতা ২৫০ কিলোটনও হতে পারে। তার মানে, হিরোশিমায় যে বোমাটি পড়েছিল, তার অন্তত ১৭ গুণ!