আজ বৃহস্পতিবার, ২০ Jul ২০১৭, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন logo

শুক্রবার, ১৪ Jul ২০১৭, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগ না চাইলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে-ওবায়দুল কাদের

নিউজডেস্ক

জনতার নিউজ২৪ ডটকম :আওয়ামী লীগ না চাইলেও বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপির রূপকল্প বা ভিশন ২০৩০ মানেই বিভিন্ন জেলায় জেলায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীষণ মারামারি। সদস্য সংগহের নামে তারা জেলায় জেলায় যেভাবে বিশৃঙ্খলা করছে তাতে করে দলটির নেতাকর্মীদের গায়ে কাপড় থাকে না, এগুলো দেখে হাসি পায়। আওয়ামী লীগের প থেকে যেসব পদপে নেওয়া হয় সেগুলো দেখার পর বিএনপি তা নকল করে। আর নকল করতে গিয়েই বিপাকে পরে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর আমরা সেøগান দিয়েছিলাম, ‘এক মুজিব  লোকান্তরে, ল মুজিব ঘরে ঘরে’। পরে জিয়াউর রহমান হত্যার পরও বিএনপিকে দেখেছি ‘এক জিয়া লোকান্তরে...’ শ্লোগান দিতে। এগুলো খুব  বেশি দিনের ইতিহাস নয়।
 
আগামী আগস্ট মাসের শোকের কর্মসূিচ ঘোষণার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন নিয়ে নতুন নতুন ধারা তৈরি হবে। গণতন্ত্রের দিক বিবেচনায় এটা চলুক সেটা আমরাও চাই।  শেষ না দেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, আসম আব্দুর রব ভাই আমার  নেতা ছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তার বাসায় উল্টাপাল্টা কিছু ঘটে থাকলেও অবশ্যই খবর পেতাম। তেমন কিছু ঘটেনি। তারপরও আমি খবর নিবো।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা কি বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার মিটিংয়ে হামলা চালিয়েছি? আওয়ামী লীগের আহাসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এম এস কিবরিয়া, সাংবাদিক মানিকসহ কত নাম বলবো যাদের হত্যা করা হয়েছে। কত গুম, কত খুন করেছে বিএনপি তার হিসাব  নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নামে ২৫০ জনকে পুড়িয়ে মেরেছে। এখনো বার্ন ইউনিটে আহাজারি শোনা যায়।

গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক একটি দল। আমাদের ঘরোয়া গণতন্ত্র, তর্ক-বিতর্ক নিয়ে, সঠিক তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করুন। তথ্য যাচাই না করে রঙ চড়ানোর দরকার আছে কি? অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের সমালোচনা আমরা করবো। কেউ কেউ এমন বিষয় নিয়ে আসেন, যেগুলো সত্য  নয়, আংশিক সত্যও আসে না। পার্টির মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি কোনো নিউজ না করার পে নই, গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমরা দল হিসাবে শুদ্ধ হতে পারি। গণমাধ্যমকে আমরা শত্রু মনে করি না। সারাদেশে ৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় খুব ভালোভাবে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয় নি বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে খবর আসে না। এটা যদি বিএনপি জিততো তবে বড় করেই খবর প্রকাশ হতো। বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২ স্থগিত হয়েছে বন্যাজনিত কারণে। বাকি ২৯টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২টি, স্বতন্ত্র ৪ টি এবং বিএনপি ৩ টিতে জিতেছে। আগস্ট মাসের কর্মসূচি পালনের নামে কোনো ভূয়া সংগঠন বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি যেনো করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, বিপ্লব বড়–য়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা মো. আবু কাওছার, যুবলীগের হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাদেক খান, যুব মহিলা লীগের নাজমা আক্তার ও অপু উকিল, ছাত্রলীগের সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।