দুর্গে জাপার প্রার্থী ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে

দুর্গে জাপার প্রার্থী ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে

নিজ দুর্গ রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে।

পঞ্চম ধাপের এই নির্বাচনে বিড়িশিল্প এলাকা বলে পরিচিত জেলার কাউনিয়া উপজেলাধীন হারাগাছে গত পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াও আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবার মেয়র পদে লড়ছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত নির্বাচনে এক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপির প্রার্থী ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক (ধানের শীষ) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদুল হক (নারিকেল গাছ)। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী থাকায় দলের কর্মী-সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যদিও বিদ্রোহী হওয়ায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এরশাদুল হক।

অন্যদিকে, দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন মডেল পৌরসভা গড়ার অঙ্গীকারসহ এক সময়ের দুর্গখ্যাত রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকা আর আওয়ামী লীগের বিরোধের মধ্যে  বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বিএনপি। গত নির্বাচনে এক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপির প্রার্থী এবার জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নাম না প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনে কেউ ঝুঁকি নিতে চান না।  নৌকার বিপক্ষে ভোট করে এখন অর্থকড়ি নষ্ট করা ও জামানত হারানো ছাড়া অন্য কিছু অর্জন হবে না। তাছাড়া সারা বছর কোনো কার্যক্রম নেই, শুধু নির্বাচনের সময় মার্কা দেখে কেউ ভোট দিতে চান না। নামমাত্র কমিটি থাকলেও কার্যক্রম না থাকায় হারাগাছে প্রার্থী হতে কেউই রাজি হননি।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ দশমিক ৩২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের হারাগাছ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ নির্বাচনে ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৮ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হারাগাছ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ৪৯ হাজার ১৭ জন।

হারাগাছ পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াটারী মহল্লার ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী বলেন, ‘মেয়র পদে তিন প্রার্থীই  শক্তিশালী। টাকাও আছে সবার। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে শেষ মুহূর্তে কে জয়ী হবেন তা বলা মুশকিল। ৩ নম্বর  ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া এলাকার বিড়ি শ্রমিক আছিরন নেছা বলেন, ‘এই এলাকার সগায় বিড়ি শ্রমিক। যায় শ্রমিকদের ভালো চাইবে তাকেই ভোট দেমো।’

সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, এই এলাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাংসদ বিশিষ্ট শিল্পাপতি রহিম উদ্দিন ভরসার বাড়ি। তিনি মারা যাওয়ার পর এলাকায় এখনো তাঁর ব্যক্তি ইমেজসহ বিএনপির শক্ত জনসমর্থন রয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নির্বাচনী এলাকা হারাগাছ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার বাড়িও এখানেই। তাই আওয়ামী লীগেরও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে হারাগাছ পৌরসভার যে উন্নয়ন হয়েছে, তা বিগত কোনো মেয়র করতে পারেননি। আমার ওপর আস্থা রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারো আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ নির্বাচনে ভোটারদের রায়ে আমি বিজয়ী হয়ে পৌরসভার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।’ বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেও মনে করেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানোয় অন্যজন মনোনয়ন পেয়েছেন। ভোটারদের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি নির্বাচনে এসেছি। আওয়ামী লীগের একজন নির্ভীক কর্মী হিসেবে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দলের পৌর মেয়র উপহার দেব।’

এদিকে, সারা দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানান বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাতো থাকবেই, তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপির জয়ের পথ সুগম হয়েছে।

রংপুর জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়। ৯টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে ৪৯ হাজার ১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। kaler kantha

Top 8 রাজনীতি সারাদেশ